সুদ ব্যয়ের ভারে নাজুক গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর আর্থিক অবস্থা

সময়: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ১১:৩০:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবসা কার্যক্রম ক্রমেই ঋণনির্ভর হয়ে পড়ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বাড়তি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত ঋণের কারণে ব্যয়ের বড় অংশ সুদ পরিশোধে চলে যাওয়ায় কোম্পানিটি ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়ছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন কোম্পানির নিরীক্ষক। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়মের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ঋণনির্ভর মূলধন ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ

নিরীক্ষকের মতে, কোম্পানিটির চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা প্রধানত স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়লে তা কোম্পানির জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে মোট ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সুদজনিত খাতে ব্যয় হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে।

ঋণ–ইক্যুইটি অনুপাত উদ্বেগজনক

২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর মোট ঋণের পরিমাণ (স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে) দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এই অঙ্ক কোম্পানির মোট ইক্যুইটি বা নিট সম্পদের প্রায় ৭৩ শতাংশের সমান। একই সময়ে ওই ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ। নিরীক্ষকের মতে, এত বেশি সুদ ব্যয় কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শ্রমিকদের পাওনা বিতরণে অনিয়ম

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৩২ ধারা অনুযায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার নয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) বিতরণ বাধ্যতামূলক হলেও গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ২০১৮–১৯ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত এই অর্থ বিতরণ করেনি। ফলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষকের হিসাব অনুযায়ী, ডব্লিউপিপিএফ খাতে শ্রমিকদের মোট প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা এখনো পরিশোধ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ অনাদায়ী থাকায় কোম্পানিটির শ্রম আইন পরিপালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অবণ্টিত ডিভিডেন্ড স্থানান্তরে ব্যর্থতা

এছাড়া কোম্পানিটির কাছে ৪৭ লাখ টাকার অবণ্টিত ডিভিডেন্ড রয়েছে বলেও নিরীক্ষক জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৭–১৮ থেকে ২০২১–২২ অর্থবছরের ৪২ লাখ টাকা তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবণ্টিত অবস্থায় রয়েছে। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত ডিভিডেন্ড ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) স্থানান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।

কোম্পানির প্রোফাইল

উল্লেখ্য, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৯.৫৮ শতাংশ।

Share
নিউজটি ৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged