মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনায় বিএটি’র বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা

সময়: শনিবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৩:১০:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তর কোরিয়াকে গোপনে সহায়তা এবং পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) ও তাদের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শত শত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে এই মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএটি থেকে সরবরাহ করা অর্থের মাধ্যমে ইরান ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করেছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই পরবর্তীতে ইরাক ও কুর্দিস্তানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, যার ফলে প্রাণহানি ঘটে এবং বহু মার্কিন সেনা গুরুতরভাবে আহত হন।

আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বিএটি ২০০১ সালে উত্তর কোরিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সিগারেট উৎপাদন শুরু করে। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গোপনে কার্যক্রম চালু রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গোপন বাণিজ্যের ফলে প্রায় ৪১৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন হয়, যা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও অস্ত্র কর্মসূচি জোরদারে ব্যবহৃত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আগেই নিশ্চিত করেছিল।

এই অনিয়মের দায়ে ২০২৩ সালে বিএটি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ৬২৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়। সে সময় কোম্পানিটির তৎকালীন প্রধান নির্বাহী জ্যাক বোলস অনুতাপ প্রকাশ করে দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে মামলাকারী মার্কিন নাগরিকদের অভিযোগ, এই অর্থ সরাসরি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ও হিজবুল্লাহর হাতে পৌঁছেছে এবং সেই অস্ত্র ব্যবহার করেই ২০২০ ও ২০২২ সালে চালানো হামলায় শতাধিক মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এই আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা বিশ্বব্যাপী তামাক কোম্পানিগুলোর নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। চলতি অর্থবছরে বিএটি’র মতো বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও বিপুল অঙ্কের জরিমানার বিষয়টি আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তামাক ব্যবসা থেকে আসা নগদ প্রবাহ যদি বিতর্কিত পথে ব্যবহৃত হয়, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged