শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন না থাকায় রিং সাইনের তহবিল অবমুক্তি বন্ধ

সময়: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৬:৫০:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহার ফের আটকে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের সমর্থন সংগ্রহ করতে না পারায় কোম্পানিটির অর্থ অবমুক্তির আবেদন এইবারও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিং সাইন কর্তৃপক্ষ তাদের আইপিও প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত তহবিলের ব্যবহার ক্ষেত্র ও সময়সীমা সংশোধনের চেষ্টা করেছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও তহবিলের এই ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য অন্তত ৫১ শতাংশ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশন কোম্পানির আবেদন নাকচ করেছে। একই সঙ্গে তহবিলের ১০ লাখ ডলার তাৎক্ষণিক অবমুক্তির প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে।

বিএসইসির কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে কোম্পানিটির বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতির ইতিহাস। তদন্তে দেখা গেছে, আইপিও-পূর্ববর্তী সময়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২৭৫ কোটি টাকার মূলধন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে বড় অংকের অর্থ কোম্পানিতে জমা হয়নি। এই জালিয়াতি এবং আইপিও প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে ৯ জন পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, রিং সাইনের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করা চারটি সিএ ফার্মও এই অনিয়মে জড়িত। ২০১৫ থেকে ২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভুয়া আর্থিক বিবরণী প্রত্যয়ন করায় আহমেদ ও আখতার, সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং, মাহফেল হক অ্যান্ড কোং, এবং এটিএ খান অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মূল হোতা হিসেবে আব্দুল কাদের ফারুক ও অশোক কুমার চিরিমার-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির ৫০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৫৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই বিএসইসি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসেও কোম্পানিটির একই ধরনের আবেদন বিএসইসি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged