দুই ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন

নির্বাচন-পরবর্তী বাজারে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে সম্ভাবনার জানালা

সময়: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৯:৩২:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে তুলনামূলক নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর প্রকাশিত ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনী ২০২৫’-এর আলোকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু মেয়াদি ফান্ডে ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্ভাব্য রিটার্নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

সংশোধিত বিধিমালার ৬২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যেসব তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড ১০ বছরের মূল মেয়াদ শেষ করার পর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তে আরও ১০ বছর বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন শর্ত প্রযোজ্য হবে। গেজেট অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোনো ফান্ডের বাজারদর যদি তার গড় সম্পদ মূল্য (এভারেজ এনএভি)-এর অন্তত ৭৫ শতাংশে উন্নীত না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ফান্ড অবসায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে বিকল্প হিসেবে ৭৫ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতিতে তা বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়—কোনো ফান্ডের ইউনিটপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৮ টাকা এবং ইস্যু বা ক্রয়মূল্য ১২ টাকা হলে গড় সম্পদ মূল্য দাঁড়ায় (৮+১২)÷২ = ১০ টাকা। এ অবস্থায় বাজারদর যদি ৩ টাকায় লেনদেন হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ১০ টাকার ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭ টাকা ৫০ পয়সায় উন্নীত না হয়, তাহলে ট্রাস্টিকে ফান্ডটি অবসায়ন করে প্রকৃত সম্পদমূল্য ইউনিটহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় সম্মতির ভিত্তিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ বিধান কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়িত অবস্থায় থাকা অনেক মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের দর সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য মূলধনী মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা পেতে পারেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের আর্থিক প্রতিবেদন, এনএভি, বর্তমান বাজারদর, অর্থবছরভিত্তিক পারফরম্যান্স, নগদ প্রবাহ ও লভ্যাংশ প্রদানের ইতিহাস ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। সচেতন বিশ্লেষণ ছাড়া কেবল সম্ভাব্য উচ্চ রিটার্নের আশায় বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

 

Share
নিউজটি ৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged