নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অস্থিরতা ও রোজার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে শেয়ারবাজারের অবস্থা ছিল নাজুক। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। মাত্র একদিন বাদে পুরো সপ্তাহ জুড়েই সূচক ও লেনদেন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আজ ছিল সবচেয়ে বড় পতনের দিন।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮২.১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৪০.৮৩ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১৩.৭৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৮.৭১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩.৮৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১.৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৫২টির, কমেছে ৩০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির।
লেনদেনের অংকের দিকে তাকালে দেখা যায়, ডিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যা আগের দিনের ৫৮০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তুলনায় ১২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা কম।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে আজ লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ১৯২.৪৬ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮২৫.১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন সূচকটি ৭৭.৬৮ পয়েন্ট কমেছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। তার ওপর রোজা শুরু হওয়ায় অনেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন, যা বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল হতাশার সময়।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অস্থিরতা চিরস্থায়ী নয়। সব সংকটেরই শেষ আছে। বর্তমান বৈরি পরিস্থিতি কেটে গেলে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বাজার। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাতে পর্যাপ্ত পুঁজি থাকলে বর্তমান সময়ে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে। ধৈর্য ধরতে পারলে ভবিষ্যতে প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


