নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে শেয়ার বিক্রির চাপে কয়েকদিনের ধারাবাহিক পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। সোমবার (৯ মার্চ) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।
লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় এবং দিনশেষ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত থাকে। এদিন Dhaka Stock Exchange–এ টাকার অংকে লেনদেন কিছুটা কমলেও অপর বাজার Chittagong Stock Exchange–এ লেনদেন বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকদিনের টানা দরপতনের পর বাজারের এ ধরনের প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর ফলে বাজারে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা ধীরে ধীরে কমে আসবে। তাদের আশা, সামনে এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাজার আবারও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
এ বিষয়ে এক বাজার বিশ্লেষক বলেন, সাম্প্রতিক নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে বাজারের এমন পুনরুদ্ধার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল তা ধীরে ধীরে কমে আসায় বাজারে আবারও গতি ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ১৩২ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৪১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ২১ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৫ দশমিক ১৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে আজ মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৩৫১টির, কমেছে ১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।
লেনদেনের অংকের দিক থেকে আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪১৬ কোটি ৪ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৫২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ উত্থান দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮১ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫০৭ দশমিক ১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবসে এ সূচক ৪৯৬ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমেছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে, ৫৫টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে সিএসইতে আজ ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক নেতিবাচক পরিস্থিতির পর বাজারের এই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন একটি ইতিবাচক সংকেত। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কমে আসবে। তারা আশা করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে এক বাজার সংশ্লিষ্ট বলেন, ‘টানা দরপতনের পর আজকের উত্থান বাজারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সংকেত। ঈদের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও ভালো অবস্থানে ফিরবে বলে আশা করছি।’


