নিজস্ব প্রতিবেদক: তীব্র অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বিদায়ী সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়লেও বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দরপতনের কারণে সূচক নিম্নমুখী হয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দুই দিন নিম্নমুখী ছিল। ফলে সার্বিকভাবে দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমার তুলনায় বেশি ছিল। এ সময়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৪২টির এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে কমেছিল ৭৩৭ কোটি টাকা এবং তারও আগের সপ্তাহে কমে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।
মূল্য সূচকের দিক থেকেও সপ্তাহটি নেতিবাচক ছিল। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে সামান্য কমে দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ৩৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৩ শতাংশ, আর তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ১৪৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, বাছাইকৃত কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও গত সপ্তাহে ১১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ২১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ এবং তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ৮৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।
তবে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক ইতিবাচক ছিল। সপ্তাহজুড়ে সূচকটি ৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহেও সূচকটি ৩ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যদিও তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ১৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
এদিকে, লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৬৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার তুলনায় বেশি। অর্থাৎ গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ২০ শতাংশ।


