চাকরিচ্যুত ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুনর্বহাল চাইলেন আন্দোলনকারীরা

সময়: রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬ ৬:৩০:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহাল এবং ছাঁটাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চাকরিচ্যুত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব দাবি তুলে ধরেন। কর্মসূচিতে তারা অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ডিএসইর চাকরিচ্যুত উপমহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা পারভীন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ডিএসইর বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এটিকে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত বলে জানান। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত। একই সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিষয়টিকে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে তারা কোথায় গিয়ে প্রতিকার চাইবেন—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ডিএসইর আরেক চাকরিচ্যুত উপমহাব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক নেটওয়ার্ক থেকেও তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

তিনি জানান, চাকরি পুনর্বহালের আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, সেই সুযোগ নেই। প্রায় ৩০ বছর ধরে ডিএসইতে কর্মরত থাকলেও এর আগে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির তিনি দেখেননি বা শোনেননি বলেও উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, সহকর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা, অর্থসচিব এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছেও আবেদন করা হয়েছে।

আব্দুল লতিফের দাবি, এ পর্যন্ত ডিএসইর ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১৪০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তাদেরও চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। শুরুতে তারা ধারণা করেছিলেন, ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে ছাঁটাই করা হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেই ধারণা আর সঠিক বলে মনে করছেন না।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged