নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, অনিয়মিত নিয়োগ এবং সিকিউরিটিজে লেনদেনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি এ বিষয়ে জারি করা এক আদেশে বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
কমিশনের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসইর একজন শেয়ারহোল্ডার সদস্য বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, মহাব্যবস্থাপকসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সিকিউরিটিজে লেনদেন কিংবা এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এসব কর্মকর্তার পরিবারের সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এমন কোনো পুঁজিবাজারভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।
ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের বিষয়ও তদন্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কমিটি, মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হবে। চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ, উপদেষ্টা নিয়োগ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও অনুসন্ধানের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী গোপনীয়তা সংরক্ষণের বিধান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যথাযথভাবে পরিপালন করেছেন কি না, তা-ও পরীক্ষা করবে অনুসন্ধান কমিটি।
অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য বিএসইসির তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন কমিশনের পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএসইর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধান সময়োপযোগী উদ্যোগ। অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুঁজিবাজারে সুশাসন জোরদার হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।


