নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ (২৩ আগস্ট) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই পতনের মুখে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সকল সূচক কমলেও টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর অধিকাংশের শেয়ারদর কমেছে।
বাজারবিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ পতনের পর গত সপ্তাহের শেষ দিনে সূচক সামান্য বাড়লেও তা ছিল নামমাত্র। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে যারা রয়েছেন তারা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছেন না। তাঁদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণেই বাজার এমন করুণ অবস্থায় পৌঁছেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পেলেও বর্তমান কমিশনের সময়ে সেই ধারা বর্তমান নেই। বরং ধারাবাহিক পতন থেকে বাজারকে উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বর্তমান কমিশন বাজার স্থিতিশীল করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে হয় না। আগের ধারাবাহিক উত্থানে যে পরিমাণ মূলধন বাজারে ফিরে এসেছিল, তা এখন পতনের ফলে দ্রুত কমে যাচ্ছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—শেয়ারবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকলে কেন এই কমিশন দায়িত্বে রয়েছে? বাজারের গতিপ্রকৃতি যাঁরা ভালো বোঝেন, তাঁদেরই এ দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।
নতুন কমিশন দায়িত্ব পাওয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোবল ভেঙে গেছে এবং বাজারের প্রতি আস্থা কমেছে। অনেকে পূর্ববর্তী উত্থানে নতুন করে বিনিয়োগ করলেও বর্তমান সংকটে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীও বাজারে প্রবেশ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কমিশনকে এখনই বাজারকে স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। তা সম্ভব না হলে সম্মানের সঙ্গে নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পুঁজিবাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৩.৮৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭২২.২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস ১৫.৮২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৪০.২৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৭.০৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৪৫.৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৩২টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ৩২৪টির দর কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেশি (আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা)।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের দিন ছিল ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ১৪৭টির দর কমেছে এবং ২৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ৭৪.০৯ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪১৭.৩৩ পয়েন্টে নেমেছে, অথচ আগের দিন এটি কমেছিল মাত্র ৭.৮৩ পয়েন্ট।


