অনুমোদনহীন সিইওদের সতর্ক করে আইডিআরএ’র চিঠি

সময়: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২, ২০২০ ১২:০২:২২ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : বেশ কিছু বীমা কোম্পানি তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ, নবায়ন বা অপসারণ সংক্রান্ত প্রবিধানমালা মানছে না। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই তারা সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় অনুমোদনহীন সিইওদের’কে সতর্ক করে সব বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বরাবর চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি(আইডিআরএ)। বিধি না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ’র সদস্য বোরহান উদ্দীন আহমেদ দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি বেশ কিছু সিইও’র নিয়োগের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে যথাযথ অনুমোদন নেয়া হয়নি। কোনো কোনো কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর পদটি বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে। চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। তাই এ অবস্থায় কোম্পানিগুলোকে আইন পরিপালনের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয়া হবে আগামী সপ্তাহে। যেসব কোম্পানি বিদ্যমান আইন পরিপালনে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বীমা খাতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগ, নবায়ন ও অপসারণের বিষয়ে অনুমোদন নিতে হয় আইডিআরএ’র কাছ থেকে। বেশ কিছু বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এ ব্যাপারে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলে আইডিআরএ’র পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই তাঁদের কাজ করার সুযোগ দেয় বীমা কোম্পানিগুলোর পর্ষদ। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই এসব সিইও যথারীতি বেতন-ভাতাও নিচ্ছেন। কোম্পানির গাড়ি ব্যবহার করছেন। যদিও আইডিআরএ’র আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তারা এটা করতে পারেন না। অনুমোন ছাড়াই গাড়ি সুবিধা ও বেতন ভাতা নেয়ার এ প্রবণতা আইন অনুযায়ী অবৈধ। কারণ আইডিআরএ’র অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদান করা বীমা আইন ২০১০-এর ৮০ ধারা এবং বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২-এর পরিপন্থী।

এতে বলা হয়েছে, আইডিআরএ’র অনুমোদন ছাড়া কেউ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে পারবেন না, বেতন-ভাতাও নিতে পারবেন না। তবে কোনো কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে ওই পদের অব্যবহিত নিম্ন পদের কোনো কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কোম্পানিতে তিন মাস পর্যন্ত দায়িত্ব¡ পালন করতে পারবেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময়সীমা আরও তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এরপরও তা মানা না হলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের জন্য আইডিআরএ কোম্পানিতে একজন প্রশাসক নিয়োগ করবে। একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ যা নির্ধারণ করবে সে অনুযায়ী কোম্পানি প্রশাসকের বেতন-ভাতার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ছয় বছর অতিক্রান্ত হলেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পায়নি। দীর্ঘসময় ধরে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে কাজ চালাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান। এদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদে অনুমোদন নেই দিপেন কুমার সাহার।

তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও হিসেবে আপেল মাহমুদকে অনুমোদন দেয়া না হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আপেল মাহমুদকে তার পূর্বের প্রতিষ্ঠান আলফা ইসলামী লাইফও ছাড়াপত্র দেয়নি। ছাড়পত্র ছাড়াই আপেল মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে প্রাইম লাইফের পরিচালনা পর্ষদ।

প্রায় দু’বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। সামসের হাসান বর্তমানে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৭ সালের ২রা মে তিনি কোম্পানিটিতে যোগদান করেন এবং একই বছরের ১লা জুন থেকে প্রধান নির্বাহীর চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৬শে জানুয়ারি ৩ বছরের জন্য কোম্পানিটির সিইও হিসেবে আইডিআরএ’র অনুমোদন পান বায়েজীদ মুজতবা সিদ্দিকী। তবে ২০১৭ সালের ৩১শে মে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন বায়েজীদ মুজতবা সিদ্দিকী। এরপর থেকেই কোম্পানিটির সিইও পদ শূন্য হয়ে পড়ে। ১৯৯৯ সালের ২৯শে ডিসেম্বর বীমা ব্যবসার নিবন্ধন পায় সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

প্রায় এক বছর ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের। কোম্পানিটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কমৃকতঅ দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ডিএমডি বদিউল আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালের ২রা এপ্রিল মো. আমিনুর রহমানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শূন্য হয় সিকদার ইন্স্যুরেন্সের।
এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড দু’বছরের বেশি সময় ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু মুসা সিদ্দিকী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া বেস্ট লাইফ, বায়রা লাইফ ও স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইওদেরও অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে আইডিআরএ।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৯০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged