বীমার বাইরে লিজিং কোম্পানিগুলো

‘আমানত বীমা’ যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করছে না

সময়: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ ১১:১৭:৫১ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : ব্যাংকগুলোর মতো ‘আমানত বীমা’ না থাকায় ব্যাংকবর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানির আমানতকারীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমানে লিজিং কোম্পানিগুলোর হাতে ৪২ হাজার কোটি টাকা আমানত রয়েছে, যার পুরোটাই আমানত বীমার বাইরে। এছাড়া ব্যাংকগুলোতেও বর্তমানে মাত্র এক লাখ টাকা পর্যন্ত বীমার আওতায় রয়েছে। এটিও অপ্রতুল বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক সময়ে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএসএল) দুর্নীতির কারণে কার্যক্রম স্থগিতের পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ বলছে, আমানত বীমার নতুন আইনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩৪টি লিজিং কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে থাকে। অনেক লিজিং কোম্পানি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বেশি চটকদারি মুনাফা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত বীমা দ্বারা সুরক্ষিত থাকলেও লিজিং কোম্পানিগুলো এর বাইরে।
এদিকে ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য মাত্র এক লাখ টাকা পর্যন্ত বীমার আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ যদি কেউ ৫০ লাখ টাকাও ব্যাংকে রাখে- সেক্ষেত্রে মাত্র এক টাকার ক্ষতিপূরণ পাবে। এটি অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে, নতুন আমানত বীমা আইনে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি লিজিং কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি আরও বাড়ানো উচিত। অন্তত ৫ লাখ টাকা বীমার আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলতে পারবে। বিষয়টি আমার জানা নেই।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকেও আমানত বীমার আওতা মাত্র এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এটি অপ্রতুল, আরেকটু বাড়ালে ভালো হতো। আর লিজিং কোম্পানিগুলো বীমার আওতায় থাকলে ভালো হয়। গ্রাহকরা অনেক কষ্টের টাকা জমা রাখে। সেক্ষেত্রে তাদের অর্থের নিশ্চয়তা দেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে এ আইন যুগোপযোগী করা হচ্ছে। আইনে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সংগ্রহ করা আমানতের বিপরীতে নির্ধারিত হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।
এটি ‘আমানত বীমা তহবিল’ নামে পরিচালিত হবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এ তহবিল থেকে আমানতকারীদের আংশিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। নতুন আইনে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত আছে- এমন গ্রাহকরাই এ সুরক্ষা পাবেন। এ সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫৬৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged