ডিএসই’র এমডি নিয়োগ

দুই প্রার্থীর সুপারিশ যাচ্ছে পর্ষদে

সময়: বুধবার, জানুয়ারি ৮, ২০২০ ১১:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে সাক্ষাতকারের পর দু’জন প্রার্থীর অনুকূলে সুপারিশ পরিচালনা পর্ষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নমিনেশন অ্যান্ড রেমিউনারেশন কমিটি (এনআরসি)। কিন্তু এ দু’জন প্রার্থী অতীতে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জনকে ডাকা হলেও ৪ জন সাক্ষাতকার দিয়েছেন। এদের মধ্য থেকে ২ জনের নাম সুপারিশ করে পর্ষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনআরসি। এনআরসি’র সুপারিশ করা ২ জন প্রার্থী হলেন- ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবেক এমডি কাজী সানাউল হক এবং যমুনা ব্যাংকের সাবেক এমডি শফিকুল আলম। এদের মধ্য থেকে পর্ষদ একজনের নাম চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠাবে। তবে এই ২ প্রার্থীর মধ্যে আইসিবি’র সাবেক এমডি কাজী সানাউল হক এর বিষয়ে ডিএসই’র একজন প্রভাবশালী পরিচালকের মৌখিক সুপারিশ রয়েছে। ওই পরিচালক পর্ষদের অন্য সদস্যদেরকেও এ প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার জন্য প্রভাবিত করছেন। ফলে পর্ষদ তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে। আগামী ৯ জানুয়ারি ডিএসই পর্ষদ সভা আহবান করা হয়েছে।

জানা গেছে, আইসিবি’র সাবেক এমডি কাজী সানাউল হক ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আইএসটিএলে’র সিইও ছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা সংঘঠিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে তলব করেছিল। ওই সময় শেয়ার ব্যবসায় জড়িত যেসব লোক ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন তাদের ঋণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যাকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা তাকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সরকারের ১৩৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।

অপরপ্রার্থী শফিকুল আলম। তিনি যমুনা ব্যাংকের এমডি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ওই সময় আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এছাড়া তিনি যমুনা ব্যাংকের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। আলোচিত বড় অঙ্কের কয়েকটি ঋণ জালিয়াতির মধ্যে রয়েছে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি। বিসমিল্লাহ গ্রুপ যে পাঁচটি ব্যাংকে জালিয়াতি করেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যমুনা ব্যাংক। ওই সময় দেশি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে অস্বাভাবিক অঙ্কের বেতনধারীদের মধ্যেও তাঁর নাম ওঠে আসে। বছরে তিনি এক কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি বেতন-ভাতা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে শেয়ারবাজার একটি খারাপ সময় পার করছে। এই মুহুর্তে ডিএসই’র এমডি হিসেবে স্বচ্ছ মানুষ দরকার। যিনি এ মন্দা সময়ে চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন – এমন লোককে এ পদে বসানো উচিত বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত এমডি’র মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১২ জানুয়ারি। এর মধ্যে এমডি নিয়োগ চূড়ান্ত করতে হবে। তাছাড়া ডিএসই’তে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে বলে বাংলাদেশ সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এমডি নিয়োগ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ডিএসই।
স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী গত অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। আলোচ্য সময়ে এমডি পদে নিয়োগ দিতে পারেনি স্টক এক্সচেঞ্জ। ফলে আরও ৩ মাস সময় দেয়া হয়েছে।

এমডি পদে যোগ্য লোকের নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিএসই তিনবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। সর্বশেষ এমডি পদে যোগ্য লোকদের ডিএসই গত ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদনের সময় বেধে দিয়েছে। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় আবেদন করার শেষ সময় বেধে দিয়েছিল এবং গত ৭ আগস্ট প্রথমবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ডিএসই। সেগুলোতে গত ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
এমডি নিয়োগে কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছে ডিএসই। এগুলোর মধ্যে প্রার্থীর ব্যবস্থাপনা, সেলস, মার্কেটিং, পাবলিক রিলেশন, প্রোডাক্ট ডেভেলাপমেন্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে- প্রার্থীকে ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসহ অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, গণিত বা আইনের স্নাতক হতে হবে। এছাড়া সিএফএ, সিএ, সিএমএ, সিএস,সিপিএ এর মতো পেশাগত ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে পুঁজিবাজারের উপর আন্তর্জাতিক কোনো ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলে প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
স্টক এক্সচেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ তিন বছর। তবে কমিশনের অনুমোদনক্রমে তিনি আরো এক মেয়াদে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন। তাই ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মাজেদুর রহমান কে পুনঃনিয়োগের জন্য বিএসইসি’র কাছে আবেদন করে ডিএসই পর্ষদ। কিন্তু বিএসইসি তা নাকচ করে দেয়ায় এমডি খুঁজতে হচ্ছে ডিএসই’কে। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আব্দুল মতিন পাটোয়ারি।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৭৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged