বন্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন

প্রভাব নেই আর্থিক প্রতিবেদনে, সুফল পাচ্ছেন না শেয়ারহোল্ডাররা

সময়: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ ১২:০১:২০ পূর্বাহ্ণ


 

মো. সাজিদ খান/ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : এক সময় পুঁজিবাজারের প্রাণ ছিল ব্যাংকিং খাত। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল এ খাতটি। কিন্ত মহাধসের পর থেকে এ খাতে নেমে এসেছে দুর্দশা। দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিসহ নানা অনিয়মে জর্জরিত হওয়ায় এ খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে। বর্তমানে এ খাতে বিনিয়োগও কমিয়ে দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও এক অংকের ঘরে অবস্থান করছে। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও ব্যাংকগুলো বন্ডের মাধ্যমে তুলে নিচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের পরও এর কোনো প্রভাব পড়ছে না কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে। ফলে এর সুফলও পাচ্ছেন না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মাসে বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ১৫ হাজার ১৫৫ কোটি উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ২২ ব্যাংক উত্তোলন করেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। আর ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তোলন করেছে ৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও মুনাফার হার কমেছে।

‘বন্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে কতটা প্রভাব ফেলে’Ñ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘আসলে বন্ডের মাধ্যমে যে অর্থায়ন হয়, তা ব্যাংকগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে কোনো ভূমিকা পালন করে না। তবে এর পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। বেশ কিছু ইস্যু পরিপালন করার জন্য মূলত ব্যাংকগুলো বন্ড ইস্যু করে থাকে।’

একই বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয় কোম্পানির উন্নয়নের জন্য। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। তাই বন্ড ইস্যুর টাকায় প্রতিষ্ঠানে সেভাবে প্রভাব পড়ে না। কারণ অনিয়ম আর খেলাপি ঋণের দুরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।’

তবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুজিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইসিবি বন্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে পুঁজিবাজারসহ সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করেছে। তাই পুঁজিবাজারের সাথে কোম্পানিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তহবিল এসেছে।’

বন্ড ছেড়ে অর্থ উত্তোলন করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনসিসি ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, প্রাইম ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকার ফ্লোটিং রেট নন-কনভারটেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, যমুনা ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল কুপন বিয়ারিং সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, ঢাকা ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকার আনসিকিউরেন্ড সাব-অর্ডিনেটেড ফ্লোটিং রেট বন্ড, রূপালী ব্যাংক ৬০০ কোটি টাকার আনসিকিউরেন্ড সাব-অর্ডিনেটেড ফ্লোটিং রেট বন্ড, সিটি ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল বন্ড, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল ফ্লোটিং রেট সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ৭০০ কোটি টাকার বন্ড, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, ডাচ্্-বাংলা ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, ওয়ান ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকার বন্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার ফ্লোটিং রেট নন-কনভারটেবল ফুল রিডেম্পবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক ৮০০ কোটি টাকার বন্ড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৬০০ কোটি টাকার বন্ড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকার বন্ড, এক্সিম ব্যাংক ৬০০ কোটি টাকার বন্ড, এবি ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড এবং ব্যাংক এশিয়া ৫০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করেছে।

এদিকে আর্থিক খাতে বন্ড ছেড়ে অর্থ উত্তোলন করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আইডিএলসি ফাইন্যান্স ২৫৫ কোটি টাকার নন-কনভার্টঅ্যাবল জিরো কূপন বন্ড, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ৩০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল জিরো কুপন বন্ড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৩০০ কোটি টাকার নন-কনভারটেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ১০০ কোটি টাকার ফ্লোটিং রেট নন-কনভারটেবল ফুল রিডেম্পবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড, আইআইডিএফসি ২০০ কোটি টাকার কুপন বেয়ারিং নন-কনভারটেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর ২ হাজার কোটি টাকার নন-কনভারটেবল ফিক্সড রেট সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করেছে।
আইসিবি’র বন্ডটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- নন-কনভারটেবল, নন-লিস্টেড, সম্পূর্ণ অবসায়নযোগ্য, সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। বন্ডটি ৭ বছরে ফুল রিডেম্পশন হবে, শুধু ব্যাংক, স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, করপোরেট বডি, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরা কিনতে পারবে। বন্ডগুলো প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কেনা যাবে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৩৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged