editorial

পুঁজিবাজারে আবার টানা পতন

বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ ১১:৪৯:২০ পূর্বাহ্ণ


আবার টানা পতন পরিলক্ষিত হচ্ছে পুঁজিবাজারে। কিছুদিন পরপর বাজার টানা পতনের ধারায় চলে যাচ্ছে। অথচ দরপতনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যাচ্ছে না। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বিএসইসি’সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরাও বাজার পতনের বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। এ প্রেক্ষাপটে বাজারে কোনো নতুন বিনিয়োগও আসছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারের এ প্রবণতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এক ধরনের আস্থাহীনতা বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত তিন কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাধারণ সূচক ১০৮ পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। আলোচ্য সময়ে লেনদেন কমে নেমে এসেছে ৩৩২ কোটি টাকায়।
প্রসঙ্গত, গত নির্বাচনের পর থেকে পুঁজিবাজারে কয়েক দফা বড় ধরনের উত্থান-পতন ঘটেছে। ফলে লেনদেনেও এর প্রভাব পড়েছে। পুঁজিবাজারে টেকসই স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে গত ২০১০ সালের ধসের পর বেশকিছু নতুন আইন-কানুন প্রণয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা এখনো সে রকম আস্থাশীল হতে পারছেন না। চলতি বাজেটে পুঁজিবাজারে একাধিক প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ছে না।

বাজারের পতন ঠেকাতে গত জুলাইয়ে রাজপথে নামেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। লাগাতার মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেন তারা। ফলে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে বিএসইসি। এ ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেন এবং স্টক এক্সচেঞ্জে ‘অস্বাভাবিক’ ট্রেড ভলিউম খতিয়ে দেখতে গত ২১ জুলাই চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএসইসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি ঈদুল আজহা’র ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসেই তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যু মূল্যে শেয়ার বাই-ব্যাক করা ও বাই-ব্যাক আইন পাস করা; যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, সেসব উদ্যোক্তা পরিচালক ও কোম্পানিগুলোকে ন্যূনতম শেয়ার ধারণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা; প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ ও প্লেসমেন্ট শেয়ারের লক-ইন পিরিয়ড ৫ বছর নির্ধারণ করা এবং পুঁজিবাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার আইপিও, রাইট শেয়ার অনুমোদন বন্ধ রাখা; খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা; ‘জেড’ ক্যাটাগরি ও ‘ওটিসি’ মার্কেট তুলে দেয়া; ‘পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫’ বাতিল করা; মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে সক্রিয় করা এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা; সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা ৮০ শতাংশে উন্নীত করা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ প্রদানের নির্দেশ দেয়া; ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা; পুঁজিবাজারে অর্থের জোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ প্রদানÑ যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে ৫ শতাংশ হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোন হিসাবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে; অ-প্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিপরীতে ‘বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ’ নামে বিকল্প স্টক এক্সচেঞ্জ চালু; পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনারদের অপসারণ করে কমিশন পুনর্গঠন করা।

Share
নিউজটি ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে ।