বিএসইসির বিধিমালা সংশোধনে নিরীক্ষক প্যানেল গঠনে আপত্তি

সময়: সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯ ৪:২২:৩৪ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ১৯৮৭ সংশোধনের বিষয়ে স্ট্রেকহোল্ডারদের পরামর্শ চেয়েছে। এ লক্ষ্যে স্ট্রেকহোল্ডাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) তাদের সদস্যদের সঙ্গে বিধিমালাটি নিয়ে আলোচনা করে। সদস্যরা তাদের মতামত জানিয়েছে। তাতে সদস্যরা নিরীক্ষক প্যানেল গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, প্যানেল গঠন করলে খরচ বাড়বে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে বিএসইসিকে পরামর্শ জানাবে ডিবিএ। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর সদস্যরা ডিলার অপারেশন, নেট ক্যাপিটালসহ অন্যান্য বিষয়েও তাদের মতামত দিয়েছেন। এছাড়া ডিবিএ সদস্যরা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ক্রেডিট রেটিং করানোর উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এ সম্পর্কে ডিবিএ পরিচালক ও ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে বলেন, প্রস্তাবিত ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০১৯’ খসড়া নিয়ে ডিবিএ সদস্যরা মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামতগুলো পর্যালোচনা করে বিএসইসিকে জানাবে ডিবিএ।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্রেডিট রেটিংয়ের বিষয়ে বলা হয়নি। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্রেডিট রেটিংয়ের বিষয়টি বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করলে বাজারের সার্বিক অবস্থার জন্য ভালো হবে।
তথ্য মতে, বিএসইসি তাদের সংশোধিত খসড়া বিধিমালাটির নাম দিয়েছে ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০১৯’। প্রস্তাবিত বিধিমালায় স্টক ব্রোকার ও স্ট্রক ডিলারদের আর্থিক হিসাব প্রণয়নে ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ একটি নিরীক্ষক প্যানেল গঠন করবে। প্রত্যেক স্টক ব্রোকার ও ডিলাররা বার্ষিক হিসাব প্রণয়ন করে ওই প্যানেল নিরীক্ষকদের দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করাতে হবে। আর হিসাব বছর শেষ হওয়ার চার মাস বা ১২০ দিনের মধ্যে কমিশনে তা দাখিল করতে হবে।
এছাড়া প্যানেল নিরীক্ষকদের কোনো অসঙ্গতি পেলে কমিশন তা ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশকে (আইসিএবি) জানাবে। আইসিএবি যদি অভিযুক্ত নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কমিশন বিষয়টি দেখবে। স্পেশাল অডিটের কার্যক্রম কি হবে সে বিষয়গুলো প্রস্তাবিত বিধিমালায় কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেকহোল্ডাদের জন্য যদি কোনো নিরীক্ষকের প্রয়োজন হয়, সেটা কমিশন নিয়োগ দেবে। কিন্তু তাদের খরচ ট্রেকহোল্ডার বহন করবে।
প্রস্তাবিত এ বিধিমালায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের বিষয়ে বেশ কিছু সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রস্তাবিত বিধিমালায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে- স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্সের প্রতিবেদন প্রত্যেক মাস শেষ হওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেবে। আর স্টক এক্সচেঞ্জ সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা কমিশনে দাখিল করবে। একইসঙ্গে স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রত্যেক স্টক ব্রোকার ও ডিলার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) অনুযায়ী আর্থিক হিসাব প্রস্তুত করবে।
স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকারের কনসোলিডেটেড কাস্টমার একাউন্টস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। এর মধ্যে স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার তাদের অফিস বা শাখা অফিসে একাধিক কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। একইসঙ্গে এ অ্যাকাউন্ট কোনো ব্যক্তির নিকট দায়বদ্ধ রাখা যাবে না।
স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকারের নিজস্ব অ্যাকাউন্টস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের বিষয়ে বলা হয়েছে- প্রান্তিক হিসাব শেষে ১৫ দিনের দিনের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের নিজস্ব হিসাব থেকে বৈধ কার্যক্রমে ফান্ড বিনিয়োগ করা যাবে না।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩১৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged