নিরীক্ষকের অভিমত

বিনিয়োগ ঝুঁকিতে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ ১২:০১:৩২ পূর্বাহ্ণ


 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ‘প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স’-এর আর্থিক প্রতিবেদনে নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির গত ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এসব অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ও নগদ অর্থের হিসাবে গড়মিল, ফ্ল্যাট বুঝে না পেয়েও সম্পদ হিসাবে প্রতিবেদনে দেখানো, সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না নেয়া, সঠিকভাবে সঞ্চিতি না রেখে অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখানো, ঋণের বিপরীতে সুদ আদায় না করা। এসব অসঙ্গতির কারণে কোম্পানিটি আইনি শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রগ্রেসিভ লাইফ বিনিয়োগ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক।

কোম্পানির নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরিতে নানা ধরনের ত্রুটি রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যায়ও গড়মিল রয়েছে। ২০১২ সালের নিরীক্ষত আর্থিক হিসাব অনুযায়ি, ব্যাংক হিসাব ছিল ১১০৬টি। কিন্তু ডকুমেন্টস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নথিভুক্ত ব্যাংক হিসাব নম্বর ছিল ১০২৩টি। ২০১২ সালের আর্থিক বিবরণীতে ১১০৬টি ব্যাংক হিসাব দেখানো হলেও তার তালিকা নিরীক্ষককে দেয়া হয়নি। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নিরীক্ষককে। ফলে অতিরিক্ত ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের সত্যতা যাছাই করা সম্ভব হয়নি বলে জনিয়েছেন নিরীক্ষক। একই সঙ্গে কোম্পানির শাখা অফিসগুলোর থেকে প্রাপ্ত হ্যান্ড ক্যাশের বিষয়ে কোনো সনদ দেখাতে পারেনি কোম্পানিটি। এতে সঠিক হিসাব যাচাই করতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

প্রগ্রেসিভ লাইফের আর্থিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি ওই ফ্ল্যাট দখলেও নিতে পারেনি। ফ্ল্যাটটির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যা আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোম্পানির দখলে না থাকলেও ফ্ল্যাটটি আর্থিক বিবরণীতে সম্পদ হিসাবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস)-১ এর ৬ ধারা অনুসারে মূলধন নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক।
এদিকে, প্রগ্রেসিভ লাইফের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি লিমিটেড। এই গ্যালাক্সি লিমিটেডের ৫১ শতাংশ শেয়ার প্রগ্রেসিভ লাইফ ধারণ করছে। এসব শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ কোটি ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ২০১০ সালের বিমা আইন অনুযায়ী কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগের পূর্বে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু প্রগ্রেসিভ লাইফ সাবসিডিয়ারিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেয়নি। একই সঙ্গে আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে ১২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে প্রগ্রেসিভ লাইফ। এসব বিষয়ে প্রগ্রেসিভ লাইফ কর্তৃপক্ষ সমন্বিত আর্থিক হিসাব তৈরী করেনি। এতে কোম্পানিটি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড এর ১০ ধারা লঙ্ঘন করেছে।
প্রগ্রেসিভ লাইফ থেকে গ্যালাক্সি ক্যাপিটালের অপারেশনাল কাজ করার জন্য বিভিন্ন সময় ঋণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ঋণ প্রদানের জন্য নিরীক্ষককে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন দেখাতে পারেনি। এতে বিমা আইন ২০১০ এর ধারা ৪৪ (৩) লঙ্ঘন করেছে প্রগ্রেসিভ লাইফ। এছাড়া প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অর্জিত সুদকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আর ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ের অর্জিত সুদ এখনো আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর্থিক হিসাবের ৯ এর ১ নোট অনুযায়ি, প্রগ্রেসিভ লাইফ ট্যাক্সের জন্য সঠিকভাবে সঞ্চিতি রাখেনি। তবে যে পরিমাণ সঞ্চিতি গঠন করেছে তা তুলনায় কম হয়েছে বিপরীত দিকে অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখানো হয়েছে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪১০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged