ছয় ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

ব্যালেন্স রিপোর্ট সময়মতো জমা না দেয়ার মানে ‘ক্যাপিটাল ঘাটতি’

সময়: রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ১০:০৮:৫১ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান (ব্রোকারেজ হাউজ) নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স রিপোর্ট সময়মতো জমা প্রদান না করলে তার নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্সে ঘাটতি রয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
প্রসঙ্গত: ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যেক মাস শেষ হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে দেখা গেছে, এই আইনি বাধ্যবাধকতার কোনো তোয়াক্কা করছে না বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
সাম্প্রতিক সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বিএসইসি-তে দাখিল করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬টি প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য সংরক্ষণ করছে না বা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- সিনহা সিকিউরিটিজ, এমডি ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ, এএনএফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিএইচপি স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ এবং বানকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
এদিকে কয়েক মাসে আগে বিএসইসি’র এসআরআই বিভাগ নতুন একটি ফরমেটের মাধ্যমে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন নেয়া শুরু করে। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর রিপোর্ট প্রদান সহজীকরণের জন্য এটি করা হয়েছে । আগে স্টক এক্সচেঞ্জ তার সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ডক্যুমেন্টসহ পুরো প্রতিবেদন বিএসইসিতে পাঠাইতো। তাতে প্রতিবেদনগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হতো।
বিএসইসি বলছে, যে ৬টি ব্রোকারেজ হাউজ নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি; তাদের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্সে ঘাটতি রয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। আর সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রুলস ১৯৮৭-এ ৩ এর ৩ ও ৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়ে দেয়া হবে এবং স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানকে তা জানিয়ে দেবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিএসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রুলস ১৯৮৭-এ ৩-এর ২, ৩, ৪ ও ৫ ধারায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি সদস্য সব সময় তার মূল হিসাবে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স মেনটেইন করবে Ñযা কখনও ১ লাখ টাকার কম হতে পারবে না। যদি নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স ১ লাখ টাকার কম হয় তবে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক সনদ স্থগিত করা হবে; যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান ওই পরিমাণ টাকা তার নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্সে সংযুক্তি না করছে। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যেক মাস শেষ হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। স্টক এক্সচেঞ্জ ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরে তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিএসইসি-তে জমা প্রদান করবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ঘাটতি থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি সূত্র বলছে, প্রত্যেক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের জন্য নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়। তাই প্রতি মাসের প্রতিবেদন মাস শেষ হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে জমা প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই প্রতিবেদনে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স ঘাটতি থাকলে তার লেনদেন স্থগিত রাখা হয়; যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রতিষ্ঠানটি নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্সে ঘাটতি দূর করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলেন, পুঁজিবাজার যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন সঠিক সময়ে প্রদান করা চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অনেকেই বাধ্য হয়ে নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্সে ঘাটতি করছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৮০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged