রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা ২ শতাংশ : সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ

সময়: মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০১৯ ৪:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাজেটেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা ছিল। তবে নীতিমালা না হওয়ায় এটি এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নিিতমালা না হলেও যারা গত পহেলা জুলাই থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে তাদের ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। আর এখন থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত এসআরও জারি করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে সঞ্চয়পত্র নিরুৎসাহিত করার জন্য সঞ্চয়পত্রের আদলে পৃথক বন্ড মার্কেট চালু করার জন্য কাজ চলছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ ঘোষণা দেন। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে ঘোষণা করেছিলাম রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকা পাঠালে সরকার ১০২ টাকা দেবে। যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু ঘোষণাটি নতুন, তাই সিস্টেমটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এটি চালু করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না। যখনই পরিপত্র জারি করা হউক না কেন, ১ জুলাই থেকেই এই ঘোষণা কার্যকর হবে।
সঞ্চয়পত্রে সুদ বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেটে সঞ্চয়পত্রে সুদের ওপর ১০ শতাংশ ট্যাক্স আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এটিকে শিথিল করা হয়েছে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যারা সঞ্চয়পত্র কিনবেন, তাদের সুদের ওপর ৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে। আর যারা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনবেন, তাদের ট্যাক্স দিতে হবে ১০ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, নতুন এই ঘোষণা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এজন্য আলাদা পরিপত্র জারি করা হবে। স্বচ্ছতা আনতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বলেন, একেক জন ধনী ব্যক্তি ২০ থেকে ৩০টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে সঞ্চয়পত্র কিনছেন। এতে কে কত টাকা বিনিয়োগ করছেন বা সঞ্চয়পত্র কিনছেন সে সম্পর্কে সরকার সব সময় অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে। ট্যাক্স আরোপ করার ফলে এই প্রবণতা কমবে এবং অসংলগ্ন লেনদেন হলে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এতে দুর্নীতিও কমবে। তবে পেনশনারদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে।
মুস্তফা কামাল বলেন, পারিবারিক বা অন্য সঞ্চয়পত্র করা হয়েছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনিয়োগের কোনো জায়গা নেই। তাদের টাকা বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতেই সঞ্চয়পত্র চালু করা হয়েছিল। এটি অর্থনীতির জন্য একটি বড় ক্ষেত্র। কিন্তু সরকারের দেয়া এই সুযোগের অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বদলে ধনীরা লাভবান হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের আদলে পৃথক বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ চালুর চিন্তা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটি হলে অর্থ বিনিয়োগের ঝামেলা কমবে। তখন মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ না করে বন্ড মার্কেটেই বিনিয়োগ করবে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৮৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged