লেনদেনের পরিবর্তে প্যাকেজ কমিশনে যাচ্ছে সিএসই

ট্রেকহোল্ডারদের বার্ষিক কমিশন সর্বনিম্ন ৫ লাখ ও সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯ ৪:৩৩:১৩ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : নানা চেষ্টা করেও লেনদেন বাড়াতে পারছে না চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। লেনদেন কমে যাওয়ায় ট্রেকহোল্ডারদের বার্ষিক কমিশন সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে সিএসই। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকেই নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সিএসই। গত ৮ আগস্ট বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে পাঠানো এ-সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, সিএসই’র পরিচালনা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছর পর্যন্ত লেনদেনের ভিত্তিতে কমিশন আদায় করা হতো। এদিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এখনও লেনদেনের ভিত্তিতে ওপর কমিশন আদায় করছে। অন্যদিকে সিএসই সদস্যদের নির্ধারিত হারে কমিশন দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সিএসই’র ছোট ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ট্রেকহোল্ডাররা বলছেন, লেনদেনের ওপর কমিশন ধার্য না করে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেয়া অযৌক্তিক। কেউ যদি লেনদেন না করতে পারে, সেক্ষেত্রেও তাকে বছরে ৫ লাখ টাকা কমিশন দিতে হবে। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ চান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ‘যারা কম লেনদেন করে এমন ট্রেকহোল্ডারদের সক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর যারা ভালো লেনদেন করে তাদের আরও উৎসাহিত করার জন্যই নতুন সিদ্ধান্ত। এতে করে ব্রোকারেজ হাউজগুলো বেশি লেনদেনে মনোযোগী হবে।’
ট্রেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে সিএসই’র পরিচালক সাঈদুর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে হলেও এ বিষয়টি তিনি অবহিত নন। সেক্ষেত্রে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসই’র সাবেক সভাপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, তাদের সর্বোচ্চ ফি ১২ লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বেশি লেনদেন করলেও ১২ লাখের বেশি দিতে হচ্ছে না। এতে অনেকে আরও বেশি লেনদেন করার চিন্তা করবে। আর যারা নিষ্ক্রিয় তারাও চেষ্টা করবে যেন কমিশন চার্জ উঠাতে পারে।

সিএসই সূত্র বলছে, বর্তমানে ১৪৮টি ট্রেকহোল্ডার আছে- তাদের অধিকাংশই এখন নিষ্ক্রিয়। এদের বেশিরভাগই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ট্রেকহোল্ডার। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রেকহোল্ডার সক্রিয়ভাবে লেনদেন করছে। অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিএসই’র ট্রেকহোল্ডার, আবার সিএসই’রও ট্রেকহোল্ডার। তাদের অনেকেই সিএসই’তে লেনদেন করতে মনোযোগী নয়। অথচ নিষ্ক্রিয়রা বছর শেষে স্টক এক্সচেঞ্জের লভ্যাংশ নিচ্ছে সমান হারে।

জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সিএসই’তে লেনদেনে আগ্রহ কম। বিশেষ করে ঢাকার হাউজগুলোতে সিএসই’র লেনদেন করা বিনিয়োগকারী খুবই কম। বর্তমানে সিএসই’তে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। লেনদেন কমতে থাকা সিএসইতে গতকাল ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৬০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান/এনটি/

Share
নিউজটি ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged