পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ

শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়েছে ডিএসই

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ১০:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে ন্যূনতম ২ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, সেসব কোম্পানির পর্ষদের শূন্যপদ পূরণ হয়েছে কি না Ñতা জানতে চেয়েছে ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ’ (ডিএসই)। চিহ্নিত কোম্পানিগুলোকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি) সূত্রে জানা যায়, যেসব কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই; তাদের শেয়ার ধারণের জন্য ৩০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে সেই সময় পার হয়ে গেছে। এখন আলোচ্য সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো তাদের ব্যর্থ পরিচালককে সরিয়ে নতুন পরিচালক অন্তর্ভুক্ত করেছে কি না Ñতা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়েছে। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ডিএসই তা বিএসইসি-কে পাঠাবে। ডিএসই’র দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিএসইসি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
গত ২১ মে বিএসইসি ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’-এর ক্ষমতাবলে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ সময় ৪৭টি কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকের শেয়ারধারণ ৩০ শতাংশের কম ছিল। তবে বিএসইসি এ নোটিফিকেশনটি যে সময়ে সংশোধন করেছে, তারপর আর শেয়ার কেনার সুযোগ ছিল না কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের। কারণ উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ‘সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ’ বিধিমালার মধ্যে পড়ে যান। ফলে নোটিফিকেশনটি জারি হওয়ার ২১ দিন আগে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনা-বেচা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। কারণ ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ ) বিধিমালা ১৯৯৫’-এর বিধি ৪-এর উপবিধি-২ অনুসারে, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা, পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী, নিরীক্ষক বা নিরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরামর্শক বা আইন উপদেষ্টা কিংবা ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’- এর সেকশন ১২-তে উল্লিখিত সুবিধাভোগী উক্ত কোম্পানির বার্ষিক হিসাব সমাপ্ত হওয়ার ২ মাস আগে থেকে কোম্পানির পর্ষদ কর্তৃক বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ পর্যন্ত কোনো শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কিংবা অন্য কোনোভাবে স্থানান্তর বা গ্রহণ করতে পারবে না।
ওই সময়ে ডিএসই’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, উদ্যোক্তা ও পরিচালক সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফাইন ফুডস-এর শেয়ার ধারণের পরিমাণ ১ দশমিক ০৯ শতাংশ, ইনটেক অনলাইন-এর ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ফ্যামিলি টেক্স বিডি-তে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ-এর ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, ফু-ওয়াং সিরামিকস-এর ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুডস-এর ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক-এর ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অগ্নি সিস্টেমস-এর ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ–এর ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, একটিভ ফাইন-এর ১২ দশমিক ০৪ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মা’র ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্স-এর ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট-এর ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, বিজিআইসি’র ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, নর্দার্ন জুট-এর ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল-এর ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, মিথুন নিটিং-এর ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলস-এর ১৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, পিপলস ইন্স্যুরেন্স-এর ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্স-এর ১৮ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ-এর ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, অ্যাপেক্স ট্যানারি’র ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, বেক্সিমকো’র ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ, অ্যাপেলো ইস্পাত-এর ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ, অলিম্পিক অ্যাক্সেসরিজ-এর ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক-এর ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, দুলামিয়া কটন-এর ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক-এর ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ, স্যালভো কেমিক্যাল ও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল-এর ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ, বিডিকম অনলাইন-এর উদ্যোক্তা ও পরিচালক সম্মিলিতভাবে ২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
এদিকে এসব ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালকরা গত জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএসইসি’র প্রজ্ঞাপন পরিপালনে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে। কারণ প্রজ্ঞাপনটি পরিপালনে কোম্পানির পরিচালকদের সময়ের প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বিএসইসি’র জারি করা প্রজ্ঞাপনে ব্যর্থ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ওপর আরোপ করা শর্তের মধ্যে ছিল- স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে সব উদ্যোক্তা ও পরিচালকের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণ করবে। এ শেয়ারধারণ না করলে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা কোনো রকম শেয়ার বিক্রি, স্থানান্তর, হস্তান্তর, বন্ধক কার্যকর করতে পারবে না। তবে ঋণ খেলাপি ও মৃত্যুজনিত শেয়ার স্থানান্তরের বিষয়টি এর বাইরে থাকবে। এছাড়া ব্যর্থ কোম্পানি রাইট অফার, আরপিও, বোনাস শেয়ার, কোম্পানি অ্যামালগামেশনসহ কোনো প্রকারে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে না। পাশাপাশি উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ওই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে একটি আলাদা ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করবে।
যদি কোনো উদ্যোক্তা পরিচালক এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধরণে ব্যর্থ হয়; তবে কোম্পানির পরিচালকের ওই পদটি শূন্য হয়ে যাবে। এ ব্যর্থতার কারণে যে শূণ্য পদের সৃষ্টি হবে, তা ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করে; এমন শেয়ারহোল্ডারের মধ্য থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূরণ করতে হবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’- কে বলেন, ‘ডিএসই থেকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার ধারণের তথ্য পাওয়ার পর বিএসইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged