স্থবির আইপিও মার্কেট

সময়: বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯ ৪:৩৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : চলতি বছরের ১২ মার্চ বস্ত্র খাতের কোম্পানি ‘রিং-সাইন টেক্সটাইল’-এর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোনো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাছাড়া রিং-সাইনের আইপিও অনুমোদনের পর প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও কোম্পানিটি এখনো বিএসইসি’র কনসেন্ট লেটার (সম্মতিপত্র) পায়নি। ফলে কাগজে-কলমে রিং-সাইনের আইপিও অনুমোদন পেয়েছে বলার সুযোগ থাকছে না।

এদিকে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের আইপিও অনুমোদন দেয় বিএসইসি। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত নিষক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে আইপিও বাজার। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটের বেহাল দশা, অন্যদিকে প্রাইমারি মার্কেটের থমকে থাকায় সামগ্রিক পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা বলছেন, মানি মার্কেটের সঙ্কট থেকেই সেকেন্ডারি মার্কেট নেতিবাচক ধারায় যায়। আর এই নেতিবাচক সেকেন্ডারি মার্কেটে আইপিও দেয়া বন্ধ করে দেয় বিএসইসি, যা এখনো চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসি সূত্র বলছে, আইপিও নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় কমিশন এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধন করেছে। তবে কয়েক মাস ধরে মার্কেট নেতিবাচক থাকার কারণে আইপিও দেয়া বন্ধ রয়েছে। এমনকি ‘রিং-সাইন টেক্সটাইল’-এর সম্মতিপত্রও দেয়া হচ্ছে না। বুক বিল্ডিং এবং ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে বেশ কিছু কোম্পানির আইপিও পাইপলাইনে থাকলেও ‘পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫’-এর সংশোধনীর গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আইপিও’র বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না বিএসইসি।
অন্যদিকে কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল- নতুন আইপিও আইন প্রণয়ন হওয়ার আগে যেসব কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের পাইপলাইনে রয়েছে, সেগুলোকে আগের নিয়মেই অনুমোদন দেয়া হবে। কিন্তু সে সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবায়ন বিগত চার মাস ধরে দেখা যাচ্ছে না। তবে বাজার একটু ঘুরে দাঁড়ালেই আইপিও’র অনুমোদন প্রক্রিয়া ফের চালু হবে।
চলতি বছরে ডিএসই’তে ফিক্সড প্রাইসে ৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- এসএস স্টিল, জেনেক্স ইনফোসিস, নিউ লাইন ক্লোথিংস এবং সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এস্কয়ার নিট কম্পোজিট এবং রানার অটোমোবাইল তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৬টি কোম্পানি। তবে উল্লেখিত সব কোম্পানিরই আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২০১৮ সালে। চলতি বছর কমিশন শুধু বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসকে বিডিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া সি-পার্ল এবং রিং-সাইন টেক্সটাইল লিমিটেডকে ফিক্সড প্রাইসে আইপিও অনুমোদন দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে বলেন, আমরা আগেই বলেছি ২৯ এপ্রিলের পর আপাতত আইপিও আবেদন বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে পাবলিক ইস্যু রুলসের সংশোধনী চূড়ান্ত করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর আবার আইপিও কার্যক্রম আগের অবস্থায় চলে আসবে।
এদিকে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আবু তাহের মুহাম্মদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে বলেন, কয়েকমাস যাবত আইপিও অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। এতে ইস্যু ম্যানেজিংয়ের কাজ অনেকটাই থমকে রয়েছে। যদিও ‘পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫’-এর সংশোধনী হয়ে গেছে। তবে গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়ার কারণে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।
২৬ কোম্পানির আইপিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পাবলিক ইস্যু রুলসের সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে। তবে গেজেটে ২৬ কোম্পানির বিষয়ে কী বলা থাকবে তা নিশ্চিত নয়। তাই গেজেট প্রকাশ করা হলে ইস্যু ম্যানেজিংয়ের কাজে গতি আসবে।
এ বিষয়ে এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন মজুমদার ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে বলেন, পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয় মূলত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য। এই অর্থ উত্তোলন যদি কমিয়ে দেয়া হয়; সেক্ষেত্রে ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি কমে আসে। তাতে পুঁজিবাজার দিন দিন খারাপের দিকে যায়।
তিনি আরো বলেন, এতো দিন বাজারে আইপিও বন্ধ রয়েছে, তাতে কি বাজার ভালো হয়েছে? বাজারে আইপিও না দেয়াতে সেকেন্ডারি মার্কেট আরো খারাপ হয়েছে। এখানে ভালো-খারাপ দু’ধরণের কোম্পানিই বাজারে আসে। দেশের সব কোম্পানি তো আর ভালো নয়। এক্ষেত্রে আমি বলবো, নতুন আইপিও বাজারে না আসাতে উভয় বাজারে প্রভাব পড়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্চেন্ট ব্যাংকার বলেন, চার মাস ধরে আইপিও ইস্যু সংক্রান্ত কাজ আটকে আছে। এতে অনেক কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। একই কাজ আবার নতুন করে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রক্রিয়াধীন কোম্পানিগুলো আগ্রহ হারাচ্ছে। তাতে ইস্যু মানেজিংয়ের কাজে আরো প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কয়েক মাস ধরে বাজারে আইপিও না আসায় তাদের প্রাইমারি মার্কেটে ব্যবসা হচ্ছে না। ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির বাজারে আসুক, এটা সবাই চায়। তাই যেসব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, ভালো ম্যানেজমেন্টসহ সার্বিক বিষয় ঠিক থাকবে, সেসব কোম্পানিকে বাজারে আনা উচিত।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৬০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged