আট লিজিং কোম্পানির বিলুপ্তি প্রক্রিয়া: বিনিয়োগকারীদের ঘুম উড়েছে

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫ ১২:২০:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আটটি লিজিং কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদের মধ্যে ৮টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রাইম ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি এতটাই চরম যে বিনিয়োগকারীদের মূলধন ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিছু প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাশাপাশি দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা পুঁজির ফেরত পাবেন না—এমন আশঙ্কাই প্রবল।

বিলুপ্তির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে বহিঃঋণদাতারা, তারপর আমানতকারীরা, এরপরে ডিবেঞ্চার হোল্ডার ও অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারহোল্ডাররা পাওনা পাবেন। সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা তালিকার একেবারে শেষ অবস্থানে থাকায় তাদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দায়ী পরিচালক ও স্পন্সরদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শেয়ারবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বড় ধরনের পতনে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে শেয়ারের দাম ১৯% থেকে ৩৩% পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে অনেক শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে নেমে গেছে, এমনকি কিছু শেয়ার ২ টাকারও নিচে লেনদেন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন,
“আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। স্পন্সর-পরিচালকদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।” তিনি আরও জানান, বিলুপ্তি প্রক্রিয়া ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাক্ট ২০২৩ অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি। মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন,
“কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব।” তবে বিনিয়োগকারীরা কত টাকা ফেরত পাবেন, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। বহু বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অনিয়ম ও সুশাসনের অভাবে পতিত হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন প্রশান্ত কুমার হালদারের কেলেঙ্কারি, যেখানে চারটি এনবিএফআই থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছিল।

 

Share
নিউজটি ৮৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged