আরও পাঁচ জীবন বীমা কোম্পানির গ্রাহকদের মিলবে ২১ কোটি টাকার দাবি

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১:৪৩:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের বকেয়া বীমা দাবি নিষ্পত্তি এবং গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া আস্থার সংকট দূর করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরই ধারাবাহিকতায় আরও পাঁচটি জীবন বীমা কোম্পানির গ্রাহকদের প্রায় ২১ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবর এসব দাবি পরিশোধ করা হতে পারে।

তিন কোম্পানির দাবির পরিমাণ নির্ধারিত

জানা গেছে, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের গ্রাহকদের ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করবে। এছাড়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকদের ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা দাবি পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের কত টাকা করে বীমা দাবি পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার আইডিআরএর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দুই দফায় ৮ হাজার ৪১৭ গ্রাহক পেয়েছেন ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা

এর আগে আইডিআরএর উদ্যোগে দুই ধাপে আট হাজার ৪১৭ জন গ্রাহককে মোট ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রথম দফায় গত ৩ সেপ্টেম্বর সাতটি জীবন বীমা কোম্পানির মাধ্যমে ২ হাজার ৫৪৯ জন গ্রাহককে ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর আরও ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীকে ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা বীমা দাবি দেওয়া হয়।

প্রথম দফায় সাত কোম্পানির গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ

প্রথম ধাপের দাবির অর্থ পরিশোধের হিসাবে দেখা যায়, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮ জন গ্রাহককে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮২৬ টাকা দেওয়া হয়েছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫২৮ জন গ্রাহক পেয়েছেন ৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৯ টাকা। আর গোল্ডেন লাইফের ৪ জন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬ টাকা।

একই দফায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫ জন গ্রাহক পেয়েছেন ১০ লাখ ৬৬ হাজার ১৯১ টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬২৪ জন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ টাকা।

এ ছাড়া প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহক পেয়েছেন ৬ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ১৬৫ টাকা। আর সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২০ জন গ্রাহককে পরিশোধ করা হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় পাঁচ কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ

দ্বিতীয় ধাপে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ হাজার ৬০০ গ্রাহককে ১২ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ১৪৫ জন গ্রাহক পেয়েছেন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ৫১৪ টাকা।

এ ছাড়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮০ জন গ্রাহককে ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। পাশাপাশি সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০০ গ্রাহক পেয়েছেন ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৪৩ গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা।

শুধু সম্পদ বিক্রি করে বিপুল দাবি পরিশোধ সম্ভব নয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শহিদুল ইসলাম জাহীদ আইডিআরএর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন।

তার মতে, গ্রাহকদের ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বীমা দাবি বকেয়া রয়েছে। শুধু সংশ্লিষ্ট জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিক্রি করে এত বিপুল পরিমাণ দাবি পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এ কারণে আইডিআরএর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যক্তি গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দাবির বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও পরিষ্কার করা দরকার।

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধকে অগ্রাধিকার: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, পলিসিধারীদের ন্যায্য দাবি যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বীমা খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দাবি নিষ্পত্তির গতি এবং স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পলিসিধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আইডিআরএ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

ধারাবাহিকভাবে বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে বিপুল অঙ্কের বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই কার্যক্রম কতটা দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকরভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged