একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অংশীজনরা

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ১০:৩৯:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংকটে থাকা অন্যান্য শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অংশীজনরা। তাদের অভিযোগ, এ পদক্ষেপ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা আরও নষ্ট করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশীজনদের বক্তব্য
আজ সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার, সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তারা সরকার ঘোষিত একীভূতকরণের বিরোধিতা করেন।

ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মেজর (অব.) এম রেজাউল হক বলেন, “একসময় বন্দুকের নলের মুখে আমাদের ব্যাংক দখল করা হয়েছিল। এখন আবার এটিকে সরকারি খাতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ আমাদের কোনো অপরাধ নেই। তাই কোনো অবস্থাতেই এই ব্যাংক হস্তান্তর করা যাবে না। আমরা ইতোমধ্যেই আদালতে রিট করেছি, সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে না।”

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, “ব্যবসায়ীরা যদি একটি ব্যাংক চালাতে না পারে, তাহলে অন্যরা কীভাবে তা পরিচালনা করবে? সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আমাদের সম্পদ। সরকার কি ইচ্ছেমতো কারও বাড়ি বা সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে?”

সাবেক পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা বিদেশ থেকে অর্থ এনে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। অনেক কষ্টে এর ভিত্তি গড়ে তুলেছি। এখন কেন এটিকে জাতীয়করণ করা হবে?”

অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট
অংশীজনরা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের পর ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকটিতে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। অথচ তার আগে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটি স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।

তারা আরও জানান, ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদান করে আসছে।

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদে মূল প্রতিষ্ঠাতা ও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এতে গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং আমানত উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে।

অংশীজনদের দাবি, যদি প্রতিষ্ঠাতা ও শেয়ারহোল্ডারদের নেতৃত্বে ব্যাংক পরিচালনা করা হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় খুব অল্প সময়েই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। পাশাপাশি তারা ক্ষুদ্রঋণ, এসএমই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সরকারি উদ্যোগ
উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক,গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক,ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

এর মধ্যে প্রথম চারটি ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সম্মত হলেও এক্সিম ব্যাংক অতিরিক্ত সময় চেয়েছে।

 

Share
নিউজটি ৩১০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged