একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

সময়: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৭:৪৩:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ক্ষতিপূরণ প্রদানের ধরন ও মডেল চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো একীভূত করার সময় ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং এটি গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৪২ হাজার কোটি টাকার জোগানসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক টেকনিক্যাল বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

অর্থ উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন, শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ একটি কারিগরি ও জটিল প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নেট অ্যাসেট ভ্যালু নেতিবাচক হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের দায়বোধ থাকে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারের সংকেত দেখে শেয়ার কিনেছেন—এই মানবিক ও যৌক্তিক দিক বিবেচনা করে তাদের জন্য উপযুক্ত সহায়তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের আর্থিক বোঝা এককভাবে বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো ঠিক হবে না।

ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি নির্দিষ্ট মডেল তৈরি করা হচ্ছে যা পরবর্তী অর্থমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন। উদাহরণস্বরূপ, বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য আংশিক শেয়ার প্রদান এবং বাকি অংশের জন্য নগদ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিখুঁত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে যাতে বিনিয়োগকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানো যায়।

ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে ড. আহমেদ উল্লেখ করেন, একটি একক সিদ্ধান্তে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। তিনি বলেন, বাজারে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন মূল লক্ষ্য, এবং সরকার এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে।

ড. আহমেদ আরও বলেন, টেকসই অর্থনীতির জন্য ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চলমান সংস্কারগুলো পরবর্তী সরকারও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে দেশের অর্থবছর ভিত্তিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged