এস আলম গ্রুপ-ঘনিষ্ঠ ব্যাংকে বিপুল আমানত, ঝুঁকিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান

সময়: বুধবার, আগস্ট ২৭, ২০২৫ ১১:৪৮:২২ পূর্বাহ্ণ

 

 

দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত রাখার কারণে আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এসব ব্যাংকের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম এবং কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি।

২০২৪ সালের জুন শেষে বিপিসির বিভিন্ন ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি আমানত রয়েছে ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকা, আর চলতি হিসাবে নগদ জমা রয়েছে ২৫ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। সুদ বাবদ আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা।
তবে এর মধ্যে ১১টি দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকে ২ হাজার ১৯০ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে—৭০১ কোটি টাকা।

২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পেট্রোবাংলার বিভিন্ন ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রয়েছে ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকা এবং চলতি হিসাবে নগদ রয়েছে ৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১৬ কোটি টাকা আটকে আছে ১০টি দুর্বল ব্যাংকে। এর মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংকে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ৫৭০ কোটি টাকা।

ইপিবির ১৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার এফডিআর আটকে আছে ৯টি বেসরকারি ব্যাংক ও একটি সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে—

৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের সাতটি শাখায়

৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে

৩১ কোটি টাকা আইসিবিতে

ইপিবির তিনটি তহবিলে মোট ৫৯টি এফডিআর রয়েছে—রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রশাসনিক তহবিল, রপ্তানি বাজার উন্নয়ন তহবিল এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার তহবিল।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘যেসব ব্যাংকে পেট্রোবাংলার স্বল্পমেয়াদি আমানত রয়েছে, তার অনেকটাই ক্যাশ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংকে তারল্য সংকট, সেখান থেকে অর্থ পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’’

ইপিবির অর্থ ও হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা জানান,‘‘দুর্বল ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তোলার জন্য চাপ দেওয়া হলেও কেউ কেউ শুধু ডিভিডেন্ড দিচ্ছে, আবার কেউ বলছে নবায়নের মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বেশির ভাগ ব্যাংকই আর্থিক সংকটের অজুহাত দিচ্ছে।’’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন,

‘‘কোনো আমানতকারীর টাকা হারাবে না। কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন। পদ্মা ব্যাংকের জন্য রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। ডিভিডেন্ডসহ আমানত ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে ধৈর্য ধরতে হবে।’’

এই পরিস্থিতি দেশের শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরত না পেলে তা পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়বে।

 

Share
নিউজটি ১৯৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged