নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি-র একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড (CVOPRL)।
ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পাঠানো চিঠির জবাবে কোম্পানিটি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি ব্যাখ্যাপত্র জমা দেয়, যা পরবর্তীতে ডিএসইতে গ্রহণ করা হয়।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “সলভেন্ট উৎপাদন বন্ধ” শীর্ষক অনলাইন সংবাদটি কোম্পানির কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে, ফলে এতে কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ ও ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-এর উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ১ কোটি লিটারের বেশি ন্যাফথা মজুদ রয়েছে।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাফথা দেশীয় উৎস থেকে (বিপিসি) সংগ্রহ করা হলেও এর দাম আন্তর্জাতিক তেলবাজারের দামের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তবে কাঁচামালের মূল্য উৎপাদিত সলভেন্টের বিক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত লোকসান এড়াতে ন্যাফথা ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানি সংবাদ প্রতিবেদনে উৎপাদন বন্ধের কারণ হিসেবে কাঁচামালের অনুপলব্ধতার তথ্যকে অস্বীকার করেছে।
এছাড়া কোম্পানি জানায়, উক্ত সংবাদ প্রতিবেদকের সঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যান শামসুল আলম শামীমের কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সলভেন্ট উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ন্যাফথা সংগ্রহ করলে কোম্পানির ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতো, যা লাভজনকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও কাঁচামালের মূল্য গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানায় কোম্পানি।
তবে কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি ব্যবসার অন্যান্য কার্যক্রম, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রয়েছে।
ব্যবস্থাপনা আরও জানায়, আন্তর্জাতিক তেলের দাম বর্তমানে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আশা করছে কোম্পানি।


