ক্রেডিট রেটিং বিধি লঙ্ঘন: দুই প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

সময়: রবিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ১১:৩৮:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্রেডিট রেটিং কার্যক্রমে বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে দুটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে আর্থিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— আরগাস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড। বিএসইসির ডিসেম্বর মাসের এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, আরগাস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড। অভিযোগে বলা হয়, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র (পিএমইউকে)-এর সঙ্গে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল একটি রেটিং চুক্তি সম্পাদন করেছিল ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, প্রাথমিক রেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী তিন বছর ওই প্রতিষ্ঠানের নজরদারি রেটিং পরিচালনার দায়িত্ব তাদেরই ছিল। তবে বিএসইসির পূর্বানুমতি গ্রহণ না করেই পিএমইউকে আরগাস ক্রেডিট রেটিংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে রেটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে। তদন্তে এই অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় আরগাসকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগকারী ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড নিজেও পৃথক একটি অনিয়মের দায়ে শাস্তির মুখে পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)। অভিযোগ অনুযায়ী, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং করার জন্য সিআরআইএসএল-এর সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তি বিদ্যমান ছিল। সেই চুক্তি উপেক্ষা করে বিমা কোম্পানিটি ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংয়ের কাছ থেকে নতুন করে রেটিং গ্রহণ করে। বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং বিষয়টি জেনেশুনেই নিয়ম ভেঙে রেটিং প্রদান করেছে।

বিএসইসি সূত্র জানায়, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি রুলস, ১৯৯৬ লঙ্ঘনের কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জরিমানার অর্থ দ্রুত নগদ বা চেকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চলতি অর্থবছরেও এ ধরনের তদারকি ও প্রয়োগমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged