নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি ব্যাংকের বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য মোট ১ হাজার ২৫৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি আবেদন প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগস্ট মাসেই যাচাই-বাছাই শেষে এসব আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে পাঠানো হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য।
সূত্র মতে, সুদ মওকুফের জন্য প্রায় আড়াই হাজার আবেদন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা পড়েছে, যা ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব নীতি অনুসারে নিষ্পত্তি করবে।
করোনাকালীন ক্ষতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তৈরি পোশাক, চামড়া, ভোগ্যপণ্য আমদানি এবং বৃহৎ শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এ বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের বড় করপোরেট ঋণখেলাপিদের মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠানকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হবে। শর্ত অনুযায়ী, মাত্র ১% এককালীন অর্থ প্রদান করে সর্বোচ্চ তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ডে ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বিশেষ সুবিধা খেলাপি কমানোর বদলে উল্টো বাড়াতে পারে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নগদ প্রবাহে চাপ পড়বে। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা বলছেন, ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক ক্ষতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তারা পুনর্গঠনে সক্ষম হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাছাই কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, প্রতিটি আবেদনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অনেক আবেদনকারীর মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপিও রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধুই সুদ মওকুফের আবেদন করা হয়েছে। ফলে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো, যা নগদ প্রবাহে চাপ ফেলতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত একজন উদ্যোক্তা বলেন, শত শত ব্যবসায়ী তাদের আবেদনের জন্য তদবির করছেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে পুনর্গঠনের সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “১ হাজার ২৫০ আবেদনের মধ্যে ২৫০টি বাছাই করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কাজ করবে ব্যাংকগুলোই।”
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “পুনঃতফসিলের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে। সুদ মওকুফও তাদের নিজস্ব নীতির অংশ।”


