জুলাইয়ে ২৫০ কোটি টাকা বেড়েছে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ

সময়: রবিবার, আগস্ট ১৭, ২০২৫ ১:৫১:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক এবং প্রাইম ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে নিট বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে মোট ১৪৫টি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ থাকলেও এর মধ্যে ২৪টির বিনিয়োগ বেড়েছে এবং ২৭টির কমেছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি শেয়ার কিনেছেন প্রাইম ব্যাংকের। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ম্যারিকো এবং উত্তরা ব্যাংক। ব্র্যাক ব্যাংকে প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকে ৭৮ কোটি টাকা, আইডিএলসি ফাইন্যান্সে ১৯ কোটি টাকা, ম্যারিকোতে ১১ কোটি টাকা এবং উত্তরা ব্যাংকে ৩.৯২ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত শক্তিশালী সম্ভাবনা এবং সুশাসনসম্পন্ন কোম্পানিকে বেছে নেন। তবে ‘জাঙ্ক স্টক’ অধিক হওয়ায় তাদের বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ থাকে হাতে গোনা কিছু শেয়ারে। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে।

মার্কেট সূচক সরবরাহকারী এমএসসিআই জানিয়েছে, জুন ২০২৫ পর্যালোচনায় বিএসইসি ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করলেও এখনও দুটি কোম্পানির শেয়ারে তা বহাল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার স্বল্পতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলধন ফেরত পেতে দেরি করছেন। তাই এমএসসিআই বিশেষ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। একইভাবে, এফটিএসই রাসেলও জানিয়েছে, দুটি কোম্পানি ছাড়া সব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ায় তারা অন্যান্য বাংলাদেশি সিকিউরিটিজ নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘ফরেন ইনভেস্টরস সামিট ২০২৫’-এ প্রধান উপদেষ্টা অর্থনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটে পড়েনি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখনই বাংলাদেশে বিনিয়োগের উত্তম সময়।”

কনটেক্সিওয়েল এনভেস্টমেন্ট এলএলসির এমডি টাকাও হিরোসে জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি বিনিয়োগ টেকসই নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মূলধন তুলে নেবে। সহিংসতা এড়িয়ে চলা জরুরি।”

এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডর ফান্ড ম্যানেজার রুচির দেশাই মনে করেন, রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে। তিনি শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বর্তমানে বিএসইসি দৈনন্দিন বাজার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বিবেচনা করে আইনি সংস্কারও সম্পন্ন হয়েছে।”

 

Share
নিউজটি ১৩২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged