ডিভিডেন্ড জটিলতায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে আমরা নেটওয়ার্ক, অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা

সময়: সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১১:২১:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের (Amra Networks) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। টানা তিন অর্থবছর ধরে প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড না পাওয়ায় তারা হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

বিনিয়োগকারীরা জানান, কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারে প্রায় ৬৯ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেও তারা কোনো নিয়মিত লভ্যাংশ পাননি। এতে কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্যমতে, ২০১৭ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ ৩৯ টাকা কাট-অফ মূল্যে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা জানিয়ে প্রতি শেয়ার ৩০ টাকা দরে রাইট শেয়ার ছাড়ে। তবে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এই অর্থ সংগ্রহের পরও কোম্পানি প্রতিশ্রুত ডিভিডেন্ড প্রদান এবং নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৪ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ডিভিডেন্ড এখনো সম্পূর্ণ বিতরণ করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ে লভ্যাংশ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী বলছেন, এই পরিস্থিতিতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে, চট্টগ্রামে প্রায় ২২ কোটি টাকার সম্পদ বিক্রির ঘোষণা দিলেও সেই অর্থের ব্যবহার বা অগ্রগতি সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে কোম্পানিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোম্পানি সচিব মুনিরুজ্জামান জানান, ধীরে ধীরে ব্যবসা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগকারীর কাছে ডিভিডেন্ড পাঠানো হয়েছে। বাকি অর্থ দ্রুত পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে পুরো ডিভিডেন্ড বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিনিয়োগকারীরা এর ইতিবাচক ফল পাবেন বলে আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, এখনো লভ্যাংশ না পাওয়া অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

Share
নিউজটি ৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged