নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৫ এপ্রিল ২০২৬: তিনটি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ (ট্রেকহোল্ডার) ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিনিয়োগকারীর অগোচরে তথ্য পরিবর্তন, ভুয়া পোর্টফোলিও বিবরণী প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করার মতো অপেশাদার আচরণের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিসহ তার চার কর্মকর্তাকে মোট ৬৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিনিয়োগকারী মো. আইয়ুব আলীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিনিয়োগকারীর অজান্তেই তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন, ভুয়া হিসাব বিবরণী তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণে চরম গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই তার মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য নম্বর সংযুক্ত করা হয়, যা সরাসরি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন। এই অপরাধে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশা, কর্মকর্তা মো. শহীদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল আহাদ শেখকে পৃথকভাবে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
এছাড়া বিনিয়োগকারীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া ও বানোয়াট পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব খোলার মূল ফরম সংরক্ষণে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্টদের অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
জরিমানার বিবরণ:
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডকে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশা এবং কর্মকর্তা মো. শহীদুজ্জামানকে ১৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে কমপ্লায়েন্স অফিসার রফিকুল ইসলাম ও কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ শেখকে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে।
তথ্য পরিবর্তন ও বিধি লঙ্ঘন:
বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তার মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিধিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। এই অপরাধে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজকে ১০ লাখ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশাকে ৫ লাখ, অফিসার মো. শহীদুজ্জামানকে ৫ লাখ এবং কমপ্লায়েন্স অফিসার রফিকুল ইসলাম ও অফিসার আব্দুল আহাদ শেখকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
ভুয়া পোর্টফোলিও বিবরণী প্রদান:
বিনিয়োগকারীকে অসত্য ও বানোয়াট পোর্টফোলিও বিবরণী প্রদানের অভিযোগে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজকে ১০ লাখ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশাকে ৫ লাখ, অফিসার মো. শহীদুজ্জামানকে ৫ লাখ এবং কমপ্লায়েন্স অফিসার রফিকুল ইসলাম ও অফিসার আব্দুল আহাদ শেখকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
নথিপত্র গায়েব ও তথ্য গোপন:
বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব খোলার ফরম সংরক্ষণ না করা এবং হারানোর অভিযোগে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজকে ১০ লাখ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশাকে ৫ লাখ, অফিসার মো. শহীদুজ্জামানকে ৫ লাখ এবং কমপ্লায়েন্স অফিসার রফিকুল ইসলাম ও অফিসার আব্দুল আহাদ শেখকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীর তথ্যের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএসইসির এই পদক্ষেপ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এ ব্যাপারে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশা শেয়ারনিউজকে জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং একটি চলমান মামলা থাকায় এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বিএসইসি থেকে তারা অবগত হয়েছেন যে, পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।


