নিজস্ব প্রতিবেদক: জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আফতাব অটোমোবাইলস এবং নাভানা সিএনজি’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান—নাভানা ব্যাটারিজ লিমিটেড ও নাভানা এলপিজি লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ব্যাংকটি। ঋণ খেলাপির অভিযোগে ব্যাংকটি এই দুই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জনতা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নাভানা ব্যাটারিজ ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং নাভানা এলপিজি ২৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা খেলাপি হয়েছে। এ কারণে ঢাকার অর্থঋণ আদালত নাভানা ব্যাটারিজের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের ১৭ জুলাই এবং নাভানা এলপিজি’র চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের ২০ জুলাই শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য সমন জারি করেছে। আদালত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্ক করেছে, তারা অনুপস্থিত থাকলে মামলার রায় একতরফাভাবে ঘোষণা করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অগ্রণী ব্যাংক নাভানা ব্যাটারিজের ১২৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে সম্পদ নিলামে তুললেও কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় ব্যাংকটি পরবর্তীতে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে।
আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, আফতাব অটোমোবাইলস নাভানা ব্যাটারিজের ৯৯.৯৫ শতাংশ এবং নাভানা সিএনজি নাভানা এলপিজি’র ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক। উভয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক। নাভানা গ্রুপের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কামাল দুটি প্রতিষ্ঠানেরই চেয়ারম্যান। আফতাব অটো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং নাভানা সিএনজি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুল ইসলাম।
২০২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাভানা ব্যাটারিজের মোট ঋণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রধান ঋণদাতা ডাচ-বাংলা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক। অপরদিকে, নাভানা এলপিজি’র মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা, যাদের মূল ঋণদাতা সিটি ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। জনতা ব্যাংক এদের উভয়কেই স্বল্পমেয়াদী ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দিয়েছে।
অর্থবছর ২০২৪-এ নাভানা ব্যাটারিজের রাজস্ব ৭৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় এবং কোম্পানিটি ৩৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে। তবে নাভানা এলপিজি রাজস্ব কিছুটা বাড়িয়ে ২২০ কোটি টাকা আয় করলেও এখনও ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার নিট লোকসানে রয়েছে।
মূল কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভাল নয়। ২০২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে আফতাব অটোমোবাইলস ১০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লোকসান করলেও নাভানা সিএনজি ৭১ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে।
ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় উভয় কোম্পানির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। আফতাব অটো এবং নাভানা সিএনজি ২০২৪ অর্থবছরে ঘোষিত ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারেনি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।


