নিজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করে বিএসসি পরিচালনার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

সময়: বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৭:৫০:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)কে আরও শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে নিজস্ব আয়ের ওপর ভর করে সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিএসসি কর্তৃক বাস্তবায়িত জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরের লভ্যাংশ বাবদ মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক সরকারকে হস্তান্তরকালে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিএসসির আয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে নতুন জাহাজ যুক্ত করে বহরকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করা যায়। জাহাজ বহর সম্প্রসারণের ফলে নাবিকদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করতে মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষকদের ধরে রাখা জরুরি, এবং এজন্য তাদের উপযুক্ত সম্মানী নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চীনের সহযোগিতায় কেনা ছয়টি জাহাজের ঋণ কিস্তি পরিশোধের অংশ হিসেবে এবং চলতি অর্থবছরের লভ্যাংশ মিলিয়ে ২০৩.৪৭ কোটি টাকা সরকারকে প্রদান করেছে বিএসসি। সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৩ বছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ হাজার ৪২৫ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করবে।

বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির জন্য সবচেয়ে সফল। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বহরে যুক্ত হওয়া পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ এই মুনাফায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে বিএসসি ইতোমধ্যে বহর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে প্রথমটি ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর বহরে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ডেলিভারি পাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে আরও চারটি বড় মাদার ভেসেল সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged