নীতিমালা-২০২৫: এমডি-ডিএমডি নিয়োগে কঠোর শর্ত, কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ

সময়: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫ ১১:৫৫:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে উল্টো বৈষম্যের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতিমধ্যে ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা-২০২৫’ খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে। ২০২৩ সালের নীতিমালাকে সময়োপযোগী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগের জন্য বিবেচনায় আসবেন বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত এমডি ও ডিএমডিরা, আর চুক্তির মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন বছর।

যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ ২.৫০ (৪-এর মধ্যে) বা ৩ (৫-এর মধ্যে) থাকতে হবে। বিদেশি ডিগ্রি থাকলে তা সমমান নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া প্রার্থীর সততা, সুনাম ও সাফল্যের প্রমাণ থাকতে হবে।

এমডি হওয়ার জন্য শর্ত রাখা হয়েছে ডিএমডি পদে ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং ৯ম গ্রেড থেকে অন্তত ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই অভিজ্ঞতার শর্ত অস্পষ্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, শুধু কর্মকাল যথেষ্ট নয়; শাখা, কর্পোরেট শাখা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন, ট্রেজারি ম্যানেজমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিএমডি হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নতুন বৈষম্য তৈরি করতে পারে। অতীতে নীতিমালার কারণে কেউ দ্রুত উন্নীত হয়েছেন, আবার কেউ পিছিয়ে পড়েছেন। এতে সিনিয়র–জুনিয়রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের মতে, কর্মকাল ও অভিজ্ঞতাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিলে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা সহজ হবে।

গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, কেবল নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা ও যোগ্যতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ভূমিকা নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়গুলোও সম্পূর্ণভাবে ওই বিভাগই দেখে।

 

Share
নিউজটি ১৬৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged