পাঁচ সংকটাপন্ন ব্যাংকের একীভূতকরণে নতুন ইসলামী ব্যাংক চালু হতে যাচ্ছে

সময়: শনিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ১২:২১:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত “৪র্থ ইকোনমিক সামিট”-এ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স অনুসরণ করা হয়েছে এবং লক্ষ্য হচ্ছে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে একটি শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা।

গভর্নর জানান, নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার সরবরাহ করবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন প্রদান করে এবং লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) জারি করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকটে থাকা এ পাঁচ ব্যাংককে ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিচালনা পর্ষদে সরকারের প্রাধান্য
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারককে নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হচ্ছে। পর্ষদে থাকবেন আরও সাতজন পরিচালক—যার মধ্যে পাঁচজন হবেন সরকারের প্রতিনিধি এবং দুজন থাকবেন বেসরকারি খাত থেকে।

খেলাপি ঋণের বাস্তব চিত্র
গভর্নর স্বীকার করেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, যার হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পাঁচ থেকে দশ বছর সময় লাগতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতি যদি ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসে, তবে নীতিগত সুদের হার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮.২০ শতাংশ।

দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
আহসান এইচ মনসুর জানান, নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং এ প্রক্রিয়ায় সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডলার বাজার স্থিতিশীল থাকার দাবি
গভর্নর জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২২.৫০ টাকা হয়েছে এবং কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের মার্জিন তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো অঙ্কের এলসি খুলতে পারছেন।
আসন্ন রমজানের আমদানি নিয়েও কোনো উদ্বেগ নেই, কারণ বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে এবং চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাজার স্বাভাবিক থাকবে।

Share
নিউজটি ৬১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged