পুঁজিবাজারে কর প্রণোদনার বড় ঘোষণা, লভ্যাংশ কর কমানোসহ একগুচ্ছ সুবিধা অর্থমন্ত্রীর

সময়: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬ ৯:৪৮:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি গভীর ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর রেয়াতের বড় প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি কোম্পানি ও ব্যক্তি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর করের হার কমানোর পাশাপাশি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সীমা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন। পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাব আনেন।

জিরো কুপন বন্ডের আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। যেকোনো পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তরপূর্বক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলেই আড়াই শতাংশ কর হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আইপিও, ডিরেক্ট লিস্টিং, রাইট ইস্যু অথবা রিপিট পাবলিক অফারের (আরপিও) মাধ্যমে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচার জন্য অফলোড করা হলে আরও আড়াই শতাংশ কর হ্রাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ডিজিটাল ও স্বচ্ছ লেনদেনকে উৎসাহিত করতে অর্থমন্ত্রী জানান, লিস্টেড বা নন-লিস্টেড যেকোনো কোম্পানি তাদের সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পাদন করলে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ কর সুবিধা পাবে। এর ফলে ক্যাশলেস লেনদেন সম্পাদনকারী যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোড করেছে, তাদের কর হার নন-লিস্টেড কোম্পানির তুলনায় সাড়ে সাত শতাংশ কম হবে।

পাশাপাশি কোম্পানি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর প্রদেয় করের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং ব্যক্তি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর এ হার ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বিদ্যমান ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন যোগাতে ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করার এ উদ্যোগগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ইতোমধ্যে বাজারে ফিরতে শুরু করেছে, যা বর্তমান বাজার সূচকের ঊর্ধ্বগতির মাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই খাতে সংস্কার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সরকার শূন্য হাতে ফিরেছে বলে যে বক্তব্য এসেছে, তার প্রতিবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফেরেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গৃহীত আইএমএফ কর্মসূচির কিছু শর্ত দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হওয়ায় বর্তমান সরকার তা গ্রহণ করেনি। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নিজেই ওই কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই একটি নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

 

Share
নিউজটি ১১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged