ফারইস্ট ইসলামী লাইফে দুর্নীতির ছায়া: বিএসইসিতে চার পরিচালক অপসারণের দাবি

সময়: রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫ ৬:১৫:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কোম্পানির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে চারজন এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা দুদকের মামলা কিংবা মামলার আসামিদের আত্মীয়। এদের অপসারণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিএসইসিতে এই অভিযোগ জমা হয়। একই ধরনের অভিযোগ বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) করা হয়েছে।

অপসারণের দাবি ওঠা চার পরিচালক হলেন—বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোকাদ্দেস হোসেন, পরিচালক মো. মোবারক হোসেন, পরিচালক নাজনীন হোসেন এবং নিরপেক্ষ পরিচালক শেখ মোহাম্মদ শোয়েব নাজির।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অর্থ আত্মসাতে জড়িত আসামি ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা এখনও পরিচালনা পর্ষদে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। ফলে মামলার অগ্রগতি ও অর্থ উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আইডিআরএ কর্তৃক নিয়োগকৃত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং ও বিএসইসি’র তদন্তের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। ইতিমধ্যে দুদক চারটি মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে একটি মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৪ পরিচালকসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করে।

মামলার ২ নম্বর আসামি ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক পরিচালক মো. হেলাল মিয়ার ভাই মোবারক হোসেন বর্তমানে কোম্পানির নিরপেক্ষ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আমানত শাহ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, যা মামলার আসামি হেলাল মিয়ার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৩৩ কোটি টাকা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হয়, যার ফলে ৬০ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকার লোকসান হয়। এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব ঘোষণা দেওয়া হয়নি, যা করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনের লঙ্ঘন।

দুদক মামলার ৪ নম্বর আসামি নাজনীন হোসেন কোম্পানির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের জমি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। জমি ক্রয়ের মাধ্যমেই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, নাজনীন হোসেনের স্বামী মোশারফ হোসেন পুস্তী নিয়মিত বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত থাকেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেন, যা বিমা আইন লঙ্ঘন করে।

মোকাদ্দেস হোসেনের দুই ভাই দুদক মামলার আসামি। অভিযোগ করা হয়েছে, স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন, যা করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনের ৬.৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ পরিচালক শেখ মোহাম্মদ শোয়েব নাজির দুদক মামলার আসামি ডা. মনোয়ার হোসেনের ভায়রা ভাই। ফলে তার বোর্ডে থাকা গভর্ন্যান্স গাইডলাইনের ৬.৩ অনুচ্ছেদ এবং ৬.৫ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, “আমি এখনো অভিযোগের কপিটি দেখিনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।”

 

Share
নিউজটি ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged