সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

বাজারে অযৌক্তিক দরপতন: ডিভিডেন্ডের সুযোগে শেয়ার সংগ্রহে কারসাজি সিন্ডিকেট

সময়: রবিবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৫ ৪:০৩:০০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিভিডেন্ড মৌসুমে দেশের পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের পেছনে সক্রিয় রয়েছে একটি পরিকল্পিত কারসাজি চক্র— এমন অভিযোগ উঠেছে বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কম দামে সংগ্রহ করতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সচেতনভাবে সূচক নিম্নমুখী করছে।

গত সপ্তাহের ধারাবাহিক দরপতন কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবস থেকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে এবং শেষ দিনেও তা অব্যাহত ছিল। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, নতুন সপ্তাহের শুরু থেকেই বাজার আরও ইতিবাচক হবে। কিন্তু রোববার (২৬ অক্টোবর) অকারণে বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের মাঝে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সূচকের উত্থান থেকে পতন
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার সকালে লেনদেন শুরু হয় সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকেই সূচক একটানা পতনের দিকে যায়, যা দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলস্বরূপ, সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনও কমে যায়।

আজ ডিএসইতে ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪২টির দর বেড়েছে, ১৯৮টির দর কমেছে এবং ৫৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২.৯১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,১২৬.৯৭ পয়েন্টে।
অন্যদিকে ডিএসইএস সূচক ৪.৭৮ পয়েন্ট কমে ১,০৮৩.৭৬ পয়েন্টে, এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১১.৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮৬.৬৯ পয়েন্টে।

লেনদেনের পরিমাণেও দেখা গেছে সামান্য পতন। আজ ৪৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৪৬৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার চেয়ে ৭ কোটি ৫ লাখ টাকা কম।

কারসাজি চক্রের কৌশল: ডিভিডেন্ডের সুযোগে কম দামে শেয়ার কেনা
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিভিডেন্ড মৌসুমে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো ছিল স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। গত সপ্তাহে বেশ কিছু কোম্পানি আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে এবং চলতি সপ্তাহে প্রায় শতাধিক কোম্পানির বোর্ড সভা বসবে ডিভিডেন্ড সিদ্ধান্তের জন্য। এই প্রেক্ষাপটে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বাজারে দরপতন ঘটাচ্ছে যাতে তারা কম দামে শেয়ার সংগ্রহ করতে পারে।

তবে বিনিয়োগকারীদের সচেতন অবস্থানের কারণে তাদের এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “বিনিয়োগকারীরা এখন পতনে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখছেন, যার ফলে বাজারে লেনদেন কিছুটা কমলেও স্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।”

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। এমনটি করতে পারলে নিজেদের বিনিয়োগকৃত পুঁজির সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সিএসইতেও লেনদেন কমেছে
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সেখানে লেনদেন হয়েছিল ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার, অর্থাৎ লেনদেন কমেছে ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সিএসইতে মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ৯১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির।
দিনশেষে সিএএসপিআই সূচক ১৭.৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৪১৩.০১ পয়েন্টে; যেখানে আগেরদিন সূচক বেড়েছিল ১২৩.৬৪ পয়েন্ট।

 

Share
নিউজটি ১০১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged