বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মাশরুর রিয়াজ। কিন্তু নিয়োগ পাওয়ার দিনই বিএসইসির কর্মকর্তারা তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিবেন না সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, তিনি সাবেক সরকার বিশেষ করে সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্টজন।
সবচেয়ে আরও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ তারা দেখিয়েছেন, যে আগের কমিশনগুলো যেভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলে এসেছে। এতে দুর্নীতি, অনিয়ম অনেক বেড়েছে। তাই নতুন বাংলাদেশে যেন একই ভুল না করা হয়। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ না হয়ে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য লোকদের সুযোগ দেওয়া হয়। বিএসইসির কর্মকর্তাদের এ দাবি গ্রহণযোগ্য। কেননা, এখন পুঁজিবাজারকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পালা। এ সময় দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হলে আগের মতই একেকজন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সিরিয়াল ধরবে। এতে সেই দুর্নীতি হয়েছিল তা চলমান থাকবে। অর্থাৎ মদ ঠিকই থাকবে শুধু বোতল ও মোড়ক পরিবর্তন হবে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম দিনের উত্থান স্বাভাবিক ছিল। এর পর ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর দর বেড়েছে। কিন্তু দেউলিয়া হয়ে গেছে বা এ পর্যায়ে আছে ব্যাংকসহ অন্যান্য খাতের অনেক শেয়ারের দর বেড়েছে। এটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়নি। গত কয়েকদিনের লেনদেন চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, বাজারের আগের চরিত্র এখনও বদলায়নি। মন্দ শেয়ার নিয়ে নতুন করে কেউ খেলার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। এর মধ্যে বিএসইসিতে নিয়োগ নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দ্বিধান্বিত হতে পারেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তার সঙ্গে সব পরিবর্তন মানানসই হওয়া দরকার। বিএসইসিতে সব নিয়োগ হওয়ার পর বোঝা যাবে, এখানে আসলে কী হচ্ছে।
এতোদিন মানহীন দুর্বল ও বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে হু হু করে। এ ধরনের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কারসাজিকারকদের পৃষ্টপোষকতা দেওয়া হয়েছে বিএসইসির শীর্ষ পর্যায় থেকে। এখন বিএসইসির নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেও সেসব কারসাজির শেয়ারের কোনো ক্রেতা নেই। তার বিপরীতে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের প্রতি বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
কারসাজির শেয়ারের এমন দরপতনের বিপরীতে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দাম বাড়ছে। মনে হচ্ছে, বাজারে কারও হস্তক্ষেপ না থাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই ভালো শেয়ারের সুদিন দেখা গেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি ও নতুন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে।
তবে ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে যেভাবে দরপতন হচ্ছে তা সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
যদিও গতকাল নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে বাজার টিকে গেছে। কিন্তু সমস্যা জর্জরিত পুঁজিবাজার কখনো ভালো ভবিষ্যত এনে দিতে পারে না। বাজারের এই চলমান সমস্যার মধ্যে আরেকটি সমস্যা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় চলছে। সরকার পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও বিএসইসির কর্মকর্তা তা মানতে নারাজ। এতে গোটা পুঁজিবাজার এক প্রকার বাপ-মা ছাড়া চলছে। এভাবে চলতে পারে না। তাই বিএসইসির কর্মকর্তারা না চাইলে নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা উচিত। এতে তাড়াহুড়া না করে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নিয়োগ হলে একজন দক্ষ ও সৎ লোক খুঁজে পেতে বেশি বেগ পেতে হবে না।


