বীমা খাতে নৈরাজ্য চান না অংশীজনরা

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৩, ২০২৪ ১১:৫০:১১ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক: দেশের অন্যতম আর্থিক খাত হিসেবে পরিচিত বীমা শিল্পে কোন ধরনের নৈরাজ্য চান না অংশীজনরা। একই সঙ্গে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে সুযোগ সন্ধানী ও দুর্নীতিবাজদের দোসর কেউ যাতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান না হতে পারে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকারের সময়ে দেশে বীমা খাতেও আমুল সংস্কার হোক তাতে সবাই একমত রয়েছেন তারা। কিন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে সামনে রেখে সরকার স্থিতিশীল হওয়ার আগেই একটি মহল এই খাতে রাতারাতি পরিবর্তন আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সূত্র জানায়, রোববার জীবন বীমা খাতের একটি কোম্পানির একদল কর্মকর্তা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে তার কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান।

এ সময়ে তারা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন; হট্টগোল করেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে আইডিআরএ।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পাশাপাশি নিয়োগকৃত প্রশাসকেরও পদত্যাগ দাবি করেন কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে বিক্ষোভ না করে কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলকে আইডিআরএ’র সঙ্গে আলোচনা করতে উপস্থিত সেনাদের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিক্ষোভকারী কর্মকর্তারা দাবি করেন যে , একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের দ্রুততম প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।

তাদের দাবি, বিমা খাতে অভিজ্ঞতাহীন একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এ নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই তার গৃহীত নানান ক্ষতিকর পদক্ষেপ প্রশাসক ও কর্মীদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে যার ফলে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ৫০ শতাংশ ব্যবসা কমেছে।

কোম্পানিটির সর্বস্তরের কর্মীরা তাকে সরিয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া এবং সেই সঙ্গে কোম্পানির আট লাখ গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মোহ অডিট করার দাবি জানিয়েছিল।

তারা অভিযোগ করেন যে, প্রতিষ্ঠার ১০ বছরে এই প্রথম গ্রাহকের বিমা দাবির সাত দিন পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করতে পারেনি সোনালী লাইফ। বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া প্রশাসকের কারণে উলটো পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি।

তাদের দাবি, বিমা খাতে অভিজ্ঞতাহীন একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এ নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই তার গৃহীত নানান ক্ষতিকর পদক্ষেপ প্রশাসক ও কর্মীদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে যার ফলে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ৫০ শতাংশ ব্যবসা কমেছে।

কোম্পানিটির সর্বস্তরের কর্মীরা তাকে সরিয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া এবং সেই সঙ্গে কোম্পানির আট লাখ গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মোহ অডিট করার দাবি জানিয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বীমা খাতের অংশীজনরা বলছেন, বিভিন্ন পদে থাকা চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ বাতিলে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। এ জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।

এর মধ্যে যেসব নিয়োগ নিয়ে বেশি বিতর্ক আছে, সেগুলো অনতিবিলম্বে বাতিল করা হবে। আর পর্যায়ক্রমে সব চুক্তি বাতিল করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত আসার পরেও তড়িঘড়ি করে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগের জন্য ব্যতিব্যস্ত হওয়া কাম্য নয়।

এতে বীমা খাতের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। নতুন সরকারের সংশ্লিষ্টরাও আইডিআরএ একজন যোগ্য চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য যথেষ্ট সময় সুযোগ পাবেন না। ফলে সুযোগ সন্ধানী বা দুর্নীতিবাজদের দোসর কোনো ব্যক্তি আইডিআরএ’র দায়িত্বে চলে আসার শঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অতীতে রাজনৈতিক সরকারের সময় বীমা কোম্পানিগুলোর অনেক দুর্নীতি এবং অনিয়মের ব্যাপারে জোরালো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি বীমা খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আমরা আশা করছি, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ে এসব ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বীমা খাতে আরও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান বৃদ্ধি পায় এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

আইডিআরএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারের সাবেক আমলা মোহাম্মদ জয়নুল বারী ২০২২ সালের ১৫ জুন তিন বছরের জন্য এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্ব পালনকালে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বড় কোন দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতকারী বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে জীবন বীমা খাতের অনেকগুলো কোম্পানির গ্রাহকরা এখনো বীমা দাবি না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আইডিআরএ’র চারটি সদস্য পদেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ রয়েছে।

Share
নিউজটি ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged