বেক্সিমকো শেয়ারে মার্জিন এক্সপোজার যাচাইয়ে ডিএসইর জরুরি উদ্যোগ

সময়: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ১২:৫০:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ লক্ষ্যে সব ব্রোকারহাউজকে মার্জিন সুবিধায় বিনিয়োগ করা গ্রাহকদের কাছে থাকা বেক্সিমকো শেয়ারের পরিমাণ এবং স্টক ডিলারদের নিজস্ব হিসাবের বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য দুই কর্মদিবসের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ব্রোকারহাউজগুলোকে পাঠানো চিঠিতে বিষয়টিকে ‘সর্বোচ্চ জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বর্তমানে বেক্সিমকো লিমিটেডের বৃহৎ বাজার মূলধন এবং সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ঝুঁকি বিবেচনায় একটি বিস্তৃত ‘ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা প্রভাব মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ডিএসইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে ১১০ টাকা ১০ পয়সার ফ্লোর প্রাইসে স্থির রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে বিএসইসি তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সীমা প্রত্যাহার করা হলেও বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা হয়। গত বছর কোম্পানিটি ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর সমন্বয়ের মাধ্যমে বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা হয় ১১০ টাকা ১০ পয়সা।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বেক্সিমকো লিমিটেড গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। বাস্তবতায় বর্তমানে কোম্পানিটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজীপুরে অবস্থিত গার্মেন্টস ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং টেক্সটাইল বিভাগ আংশিকভাবে চালু থাকায় উৎপাদন ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বেক্সিমকোর আয় আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা থেকে কমে ৪১৫ কোটি টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে কোম্পানিটিকে ৩৫৬ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনতে হয়েছে। এখনো প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগকারীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—তা নিয়েই শেয়ারবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Share
নিউজটি ৬৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged