নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য গোপন করেই শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান ঘটাচ্ছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) থেকে বড় ধরনের অর্ডার পাওয়ার পরও কোম্পানিটি এখনো বিনিয়োগকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। অথচ বাজারে এ খবরে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শেয়ারের দর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কারসাজির অভিযোগ উঠছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিসিআইসি এখন তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাগের অর্ধেকই মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ক্রয় করবে। এই নির্দেশনা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জারি হলেও এতদিনে তা প্রকাশ করা হয়নি। বাজারে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাত্র ১১ কার্যদিবসে কোম্পানির শেয়ারের দর ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ—কোম্পানির ইন্ধনেই এমন অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, আর্থিক খাতের দিক থেকে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ এখনো সংকটে রয়েছে। চলতি ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিক (জুলাই ২০২৪–মার্চ ২০২৫) শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মুনাফায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে শেয়ারহোল্ডারদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে রেকর্ড ১২ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে। ওই সময় কোম্পানির রাজস্ব ৮৫ শতাংশ হ্রাস পায় এবং রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন লোকসানি অবস্থায় কোনো কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। এতে শেয়ারবাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।


