শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-কে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে তহবিলটির কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০২৫ সালের নতুন আইনের আওতায় সিএমএসএফকে বিধিবদ্ধ তহবিলের মর্যাদা দেওয়া হবে। এর ফলে তহবিলের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক কার্যক্রম হবে আরও সুসংগঠিত। পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাত সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। পর্ষদে থাকবে অর্থ মন্ত্রণালয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধি।
তহবিলের জনবল পুনর্গঠন করা হবে এবং এর অফিস বিএসইসি বা বিএএনএম-এর অধীনে পরিচালিত হবে, যা পরিচালন ব্যয় কমাবে। সিএমএসএফ থেকে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিভিডেন্ড বিতরণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য টিডিএস প্রক্রিয়া সহজ করবে।
বর্তমানে সিএমএসএফ ইস্যুকারী কোম্পানি থেকে নগদ ৬৯৭ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং শেয়ার ডিভিডেন্ড হিসেবে ১৪ কোটি ৩৭ লাখ শেয়ার পেয়েছে। তবে এর মধ্যে সামান্য অংশই বিনিয়োগকারীদের দাবি মেটাতে ব্যবহার হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় তহবিলে থাকা প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল, তবে বিএসইসি তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ এই অর্থ সরাসরি বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত, তাই আইনত তা সরকারি খাতে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে সিএমএসএফের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং দেশের শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
S


