নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার উন্নয়নে ৪ শতাংশ সূদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ পাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। খুব শিগগিরই ঋনের ৩ হাজার কোটি টাকা আইসিবিকে দেয়া হবে।
গত রোববার ০১ ডিসেম্বর সুদ হার কমানোর বিষয়ে আইসিবির সাথে অর্থ উপদেষ্টার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সুদ হার কমানোর বিষয়ে সম্মতি দেয় অর্থ উপদেষ্টা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা, আর্থিক বিভাগের সচিব এবং আইসিবির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বিষয়টি ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে আইসিবির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, সরকারি গ্যারান্টির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশেকে (আইসিবি) দেওয়া তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের খবরে চাঙ্গা হয়েছিল শেয়ারবাজার। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ আরোপ করার খবরে ফের চাপে পড়ে দেশের শেয়ারবাজার।
এর আগে শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) সভরেন গ্যারান্টির বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আইসিবিকে সভরেন গ্যারান্টির বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে।
তবে আইসিবিকে দেওয়া ঋণের জন্য ১০ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টিতে জোর আপত্তি তুলেছিল আইসিবি। এ জন্য ঋণের সুদ হার কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরকে চিঠি দিয়েছিল আইসিবি। পাশাপাশি বিষয়টিতে অর্থ উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা গত রোববার জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে ঋণের সুদ হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।
জানা যায়, শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট নিরসন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণের বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের চিঠি গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকালে পেয়েছে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। ঋণের এই অর্থের সার্বভৌম (সভরেইন) গ্যারান্টার হয়েছে সরকার।
গ্যারান্টার হওয়ায় কোনো কারণে আইসিবি ঋণের অর্থ সঠিক সময়ে ফেরত দিতে না পারলে সরকারকে তা পরিশোধ করতে হবে। আইসিবিকে দেয়া সরকারের গ্যারান্টির মেয়াদ হবে ঋণ দেওয়ার তারিখ থেকে ১৮ মাস। সরকারের দেওয়া গ্যারান্টিপত্রে বলা হয়, আইসিবি সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে যে মুনাফা দেয়, সেখান থেকে অপরিশোধিত বা বকেয়া ঋণ বা ঋণের উপর ধার্য সুদ সমন্বয় করা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ অগাস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শোচনীয় পতন হলে শেয়ারবাজারে লেনদেন ও সূচক বেড়েছিল। কিন্তু সেই ধারা ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ। ১৪ অগাস্টের পরে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন শুরু হয়। এমনকি একদিনে সূচকের একশ পয়েন্ট হারানোর ঘটনাও বিনিয়োগকারীরা দেখেছেন। পতনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বাজারে তারল্য প্রবাহের সংকট রয়েছে এবং আইসিবিও আশানুরূপ বিনিয়োগ করতে পারছিলনা, এমন দাবি করে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার কাছে তিন হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চায় প্রতিষ্ঠানটি। ঋণ আবেদন পর্যালোচনা করতে গত ১৭ অক্টোবর অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব ও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যানকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছিল সরকার।


