নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১৪ টাকা পুঁজি গায়েব হয়ে গেছে। অর্থাৎ দুই সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার। বিদায়ী সপ্তাহে (২৭-৩০ এপ্রিল’২৫) বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবগুলো সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমেছে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সূচকের পতন হলেও টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৪.৬৮ পয়েন্ট বা ১.১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯১৭.৯২ পয়েন্টে।
অপর সূচকগুলোর মধ্যে- ডিএসই-৩০ সূচক ২২.১২ পয়েন্ট বা ১.২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮২২.৮৯ পয়েন্টে।
ডিএসই শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১০.৫২ পয়েন্ট বা ০.৯৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৪.১৮ পয়েন্টে।
এছাড়া, ডিএসএমইএক্স সূচক ১১.০৫ পয়েন্ট বা ১.২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৩.৪৮ পয়েন্টে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে।
এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭টি, কমেছে ৩২৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের।
বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫২ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩৮বার হাতবদল হয়।
টাকার অংকে যার বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১০ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।
আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭১৮ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকার।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩০৮ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বা ১৭.৯২ শতাংশ।
বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫০ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৮৮০ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা বা ১.০৪ শতাংশ।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫১.৬৪ পয়েন্ট বা ১.০৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮০৫.৩১ পয়েন্টে।
সিএসইর অপর সূচক সিএসসিএক্স ৯৬.৩৩ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪২৮.৫৫ পয়েন্টে।
অপর ২টি সূচকের মধ্যে সিএসই-৫০ সূচক ১১.৯২ পয়েন্ট বা ১.১১ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক ৫.৮২ পয়েন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে- এক হাজার ৬৫.৮৯ পয়েন্টে এবং ৮৯৭.৯৮ পয়েন্টে।
এছাড়া, সিএসই-৩০ সূচক ৯৮.০৭ পয়েন্ট বা ০.৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৭৩.৪৯ পয়েন্টে।
সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে।
এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১১টি, কমেছে ১৭২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির।
সপ্তাহটিতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৭ টাকার।
আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৫২০ টাকার।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৪১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩১৭ টাকা বা ১৫১.০৪ শতাংশ।


