নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা আবারও পিছিয়েছে। আদালত নতুন করে আগামী ২৬ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।
দুদক নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন।
মামলার আসামির তালিকা
এই মামলার মোট ১৫ আসামির মধ্যে রয়েছেন—
-
সাকিব আল হাসান,
-
সমবায় অধিদফতরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী কাজি সাদিয়া হাসান,
-
আবুল কালাম মাদবর,
-
কনিকা আফরোজ,
-
মোহাম্মদ বাশার,
-
সাজেদ মাদবর,
-
আলেয়া বেগম,
-
কাজি ফুয়াদ হাসান,
-
কাজি ফরিদ হাসান,
-
শিরিন আক্তার,
-
জাভেদ এ মতিন,
-
জাহেদ কামাল,
-
হুমায়ূন কবির এবং
-
তানভীর নিজাম।
অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক অ্যাকটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কৃত্রিমভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটান।
এই কারসাজির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারান। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় আসামিরা মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সাকিবের সংশ্লিষ্টতা
অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবুল খায়েরের মাধ্যমে কারসাজিকৃত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেড-এর শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান।
এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি শেয়ারবাজারে কারসাজিতে যুক্ত হন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
মামলার পটভূমি
গত ১৭ মে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়েছে, আবুল খায়ের এবং তার স্ত্রী কাজি সাদিয়া হাসান ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর করেছেন।
এছাড়া, আবুল খায়েরের নামে থাকা মোট ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে।


