নিজস্ব প্রতিবেদক: ধারাবাহিক দরপতনে ধুঁকছে দেশের শেয়ারবাজার। আজ (১৯ অক্টোবর) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে এসেছে গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। একই সঙ্গে লেনদেনও কমে এসেছে একই সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে।
ডিভিডেন্ড ঘোষণার মৌসুমে এমন মন্দাবাজারে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা অবস্থায় আছেন। কেউ মুনাফা তোলার চিন্তায় বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন বাজারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং তারল্য সংকট মিলিয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বাজারের এই পতনের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
? ডিএসই এক্স সূচক ৭৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৪-এ
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৫.০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,০৪৪.৩৩ পয়েন্টে, যা গত ৯ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থান। ওইদিন সূচকটি ছিল ৫,০৪৫.৪৬ পয়েন্টে।
অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ২৩.৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১,০৬২.৩৩ পয়েন্টে।
অন্যদিকে ডিএসই-৩০ সূচক ২৯.৭৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১,৯৩৮.১৭ পয়েন্টে।
? ৪৪৪ কোটি টাকায় সীমিত লেনদেন
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ৩১৪টির দর কমেছে এবং ৩৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর আগে ২৫ জুন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪১৩ কোটি ২১ লাখ টাকার।
গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা।
? সিএসইতেও পতনের ধারা অব্যাহত
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজও সূচক পতন ও কম লেনদেনের ধারা বজায় রয়েছে।
আজ সিএসইতে ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগেরদিনের ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি।
লেনদেনে অংশ নেয়া ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির দর কমেছে এবং ১৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সার্বিকভাবে সিএএসপিআই সূচক আজ ১৯৪.৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,২৭৩.৮৫ পয়েন্টে।
এর আগের দিন সূচকটি কমেছিল ৪৪.৬৪ পয়েন্ট।
? বাজারে আস্থাহীনতা বাড়ছে
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিভিডেন্ড মৌসুমে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বাজারে অংশ নেন। কিন্তু এবারে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।
একদিকে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, অন্যদিকে নীতিগত অনিশ্চয়তা বাজারে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
তারা মনে করছেন, বাজারের এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী পতন রোধে বিএসইসি ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।


