নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনের শুরুতে আশার আলো জাগালেও শেষ পর্যন্ত হতাশায় শেষ হয়েছে মঙ্গলবারের (১৪ অক্টোবর) শেয়ারবাজার লেনদেন। সকালে বাজার ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শুরু করলেও দুপুরের পর থেকে সূচক হঠাৎ নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তা পতনেই রূপ নেয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও মনোভাব নেমে আসে নিম্নমুখী। তবে সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ টাকার অংকে বেড়েছে, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০.৪৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৯৭.২৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে, ডিএসইএস সূচক ৬.১১ পয়েন্ট কমে নেমে গেছে ১ হাজার ১১১.৬২ পয়েন্টে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৪.২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯৫.৬৫ পয়েন্টে।
দিনের শুরুতে সূচক ইতিবাচক ছিল। সকাল ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ প্রধান সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৭৩ পয়েন্টে। কিন্তু দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের পর থেকে সূচকের পতন শুরু হয় এবং দিনের শেষ দিকে সেই ধারা অব্যাহত থাকে।
ডিএসইতে আজ মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টির দর বেড়েছে, ২৩৩টির দর কমেছে, আর ৫৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে আজ কিছুটা ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট ৬০৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৫৩০ কোটি টাকার তুলনায় ৭৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা বেশি। অর্থাৎ সূচক পতন হলেও লেনদেনে ১৪.৪% প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেনেও পতন
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনে সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারে মোট ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিনের তুলনায় (১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা) লেনদেন কমেছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সিএসইতে আজ ২০৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৬৩টির দর বেড়েছে, ১১০টির দর কমেছে, এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দিনশেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫২.৮১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭২৩.৭৮ পয়েন্টে। আগেরদিনও সূচকটি ৩৮.৫৯ পয়েন্ট কমেছিল, যা বাজারে ধারাবাহিক পতনের ইঙ্গিত দেয়।
? বাজার বিশ্লেষণ:
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে বিনিয়োগকারীরা আগের দিনের ইতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতা আশা করেছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর থেকে বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকায় সূচক নিম্নমুখী হয়। এতে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও, লেনদেনের বৃদ্ধি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহের ইঙ্গিত বহন করছে।


